পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৮ জুলাই: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শহিদ প্রদ্যোৎ স্মৃতিভবনে মঙ্গলবার ‘ভিবি জি- রামজি’ প্রকল্প এবং বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে যোগ দেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। প্রশাসনিক আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন দফতরের কর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রকল্পগুলির দ্রুত ও স্বচ্ছ বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, ‘ভিবি জি- রামজি’ প্রকল্পে ১০০ দিনের কর্মসংস্থানের সঙ্গে অতিরিক্ত ২৫ দিন কাজের সুযোগ যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরিও বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রকল্পটি যাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার জন্য সরকার নতুন গাইডলাইন জারি করেছে। সেই নির্দেশিকা মেনেই সমস্ত কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
তিনি আরও জানান, মোট ৩১৮টি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুসারে সরকারি অর্থ ব্যয় করে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা যাবে। জি-রামজি প্রকল্প, আবাস যোজনা-সহ একাধিক সরকারি প্রকল্পের সমীক্ষার কাজ বর্তমানে চলছে। এই সমীক্ষা শেষ করার জন্য আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
মন্ত্রী বলেন, জেলার বহু পঞ্চায়েতে এখনও বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি বা আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি। সেই কারণেই জেলা উন্নয়নের নিরিখে পিছিয়ে রয়েছে। কোথাও কোনও সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট বিডিওদের স্থানীয় বিধায়কদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দ্রুত সমস্যার সমাধান করার নির্দেশ দেন তিনি।
প্রশাসনিক কর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েই আমরা কাজ করছি। সেই দায়িত্ব যদি পালন করতে না পারি, তাহলে নেতাগিরির কোনও অর্থ নেই। কাজ করেই মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কড়া বার্তা দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, কেউ অকারণে অশান্তি বা উৎপাত সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা- কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বিজেপির কর্মীরাও গ্রেফতার হয়েছেন। তাঁর কথায়, “কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইন সবার জন্য সমান।”
এছাড়াও তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, হাজার হাজার সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে রাস্তাঘাট বা রেলস্টেশন দখল করে ব্যবসা করার অনুমতি সরকার দেবে না। জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলেও তিনি জানান।
সরকারি প্রকল্পগুলির অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে তিনি নিজেই পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নের অগ্রগতি খতিয়ে দেখবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্ত কাজ সম্পন্ন করে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি প্রশাসনের সব স্তরের আধিকারিকদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন।

