আমাদের ভারত, ২৮ জুলাই: রাজ্য জুড়ে রাস্তাঘাট দ্রুত সংস্কারের কড়া নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার নবান্নে সব দপ্তরের সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেই বৈঠকে একাধিক জরুরি বিষয়ে কড়া বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে খারাপ রাস্তা মেরামতের জন্য আগামী অক্টোবর পর্যন্ত সময়সীমা বা
ডেডলাইন বেঁধে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
কলকাতা শহর থেকে শুরু করে জেলার সমস্ত খারাপ রাস্তা, এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের উপযুক্ত করে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলিকে তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাস্তা সংস্কারের কাজ যাতে কোনো জটিলতায় আটকে না থাকে, তার জন্য যৌথ উদ্যোগের কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনটি বড় দপ্তরকে অবিলম্বে মাঠে নেমে কাজ করার বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পূর্ত দপ্তর, পৌর ও নগর উন্নয়ন দপ্তর, পঞ্চায়েত দপ্তরকে বলা হয়েছে যাতে বর্ষার পরেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বিভিন্ন জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক এবং ব্লকের ভেতরের রাস্তাঘাটের কাজ শেষ করা যায়। যার প্রস্তুতি এখন থেকেই নিতে বলা হয়েছে।
বেহাল রাস্তার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ণেও আমলাদের স্পষ্ট পথনির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, রাজ্য সরকারের বিশেষ অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকা একাধিক প্রকল্পকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করতে সচিবদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। যে যে প্রকল্প গুলিতে গতি আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলি হল অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর যোজনা, জি রাম জি প্রকল্প।
সরকারের স্পষ্ট নীতি, সাধারণ নাগরিকরা যাতে এই সমস্ত সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বিন্দুমাত্র বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য পূরণ করতে নবান্ন থেকে সমস্ত সচিবদের নির্দেশ জারি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
অন্যদিকে দুর্নীতি, তোলাবাজি, কাটমানি সহ বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে রাজ্যজুড়ে চালু করা হয়েছে ডেডিকেটেড টোল ফ্রি হেল্পলাইন। এই পরিষেবার উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, দুর্নীতি, সিন্ডিকেট রাজ, বেআইনি তোলা আদায়, কিংবা অবৈধ মদের কারবারের মতো অভিযোগ এবার সরাসরি প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন সাধারণ মানুষ। এর জন্য চালু করা হয়েছে পৃথক টোল ফ্রি নম্বর।
রাজ্যে যে কোনো প্রান্ত থেকে নম্বরগুলিতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ফোন করে অভিযোগ জানানো যাবে বলেও সরকারের দাবি। প্রতিটি অভিযোগ সরাসরি প্রশাসনের কাছে পৌঁছবে, এবং তা খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।

