আমাদের ভারত, কলকাতা, ১২ এপ্রিল: রাজ্যজুড়ে ক্রমাগত বেড়ে চলা নারী নির্যাতন ও নারী ধর্ষণের বিরুদ্ধে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের জন্য তাঁর পদত্যাগের দাবি জানালেন সংগঠনের রাজ্য (দক্ষিণবঙ্গ প্রান্ত) সম্পাদক সঙ্গীত ভট্টাচার্য।
মঙ্গলবার সঙ্গীতবাবু এক বিবৃতিতে জানান, “সময়টা এখন ধর্ষকদের। পশ্চিমবঙ্গ এখন ধর্ষকদের অভায়ারণ্য। এরাজ্যে ধর্ষণের মহোৎসব চলছে যেন। তিন বছরের বাচ্চা থেকে শুরু করে কিশোরী, যুবতী, মধ্যবয়সী, বৃদ্ধা ও মুখ বধির আজ সবাই শিকার হচ্ছেন ধর্ষণের। নিম্নবিত্ত বা বিত্তহীন নারী কেবল নন, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত থেকে ধনীর দুহিতাকেও পোহাতে হচ্ছে ধর্ষণের নরকযন্ত্রণা। আর এই ধর্ষণ করছে কারা? অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে বর্তমান শাসক দলের সাথে যুক্ত লোকেরাই এই সকল ঘটনায় জড়িত। শুধু তাই নয়, স্বয়ং মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীও আবার প্রতিটি ধর্ষণ শেষে নতুন নতুন তত্ত্ব খাড়া করতে সচেষ্ট।
আমরা পূর্বে দেখেছি ধর্ষণের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনাকে স্বয়ং মাননীয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখনো ছোট ঘটনা, তো কখনো সাজানো ঘটনা, বিরোধীদলের কারসাজি, শাসক দলকে বদনাম করার চক্রান্ত, শরীর থাকলে এরকম তো কতই হয়, ইত্যাদি নানা রকম কুরুচিকর মন্তব্য করে ঘটনাক্রমকে লঘু করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। আর এইবার হাঁসখালি কান্ডেও তার অন্যথা করেননি। তিনি ধর্ষিতা মেয়েটিকে নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন সত্যিই কি ধর্ষণ হয়েছিল না প্রেগনেন্ট ছিল। না অন্য কোনও কারণে হয়েছে। না কি কেউ ধরে দুটো চড় মেরেছে বা শরীরটা খারাপ হয়েছে। লাভ অ্যাফেয়ার্সের প্রসঙ্গও তিনি তুলেছেন। যা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও হৃদয়বিদারক বলেই আমরা মনে করি।
বোলপুর থেকে রায়গঞ্জ, ভাঙড় থেকে নামখানা কিংবা সন্দেশখালি থেকে হাঁসখালি সব জায়গাতেই একের পর এক ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ সামনে আসছে। শুধু এই এক সপ্তাহেই প্রায় ১৫ জন মহিলা ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার যাদের মধ্যে অধিকাংশই আবার নাবালিকা।
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা বাঙালি বীরাঙ্গণা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, মাতঙ্গিনী হাজরার রাজ্যের আজ এই শোচনীয় অবস্থা দেখে খারাপ লাগছে। সমগ্র রাজ্যটা যেন এক কালো অধ্যায় এর মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সর্বোপরি মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হয়েও রাজ্যের মহিলাদের সুরক্ষা দিতে তিনি বারবার ব্যর্থ।“

