ত্রিকোণ সম্পর্কের জেরে খুন বলরামপুরের যুবক, গ্রেফতার এক মহিলা সহ হোমগার্ড

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৮ আগস্ট: ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই খুনের কিনারা করল পুরুলিয়ার বলরামপুর থানার পুলিশ। খুনের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রামের ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ তাদের পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হলে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। ধৃতদের মধ্যে ১ জন পুলিশের হোম গার্ড কর্মী, অন্য জন তিলাই গ্রামের গৃহবধূ।

বৃহস্পতিবার রাতে বলরামপুর থানার তিলাই গ্রামের বাসিন্দা দয়াল রাজোয়ার খাওয়া দাওয়া সেরে বাড়ির বাইরে যান। রাত ১১.৩০ টা নাগাদ তার সম্পর্কে ভাইপো শুকদেব, রাজোয়ার দয়ালের বাড়িতে খবর দেন যে কাকা স্থানীয় ক্লাবের সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দয়ালের ভাই ও বাড়ির অন্যান্য লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করার সময় ভাই গণেশ রাজোয়ারকে গ্রামেরই বাসিন্দা মুক্তিপদ কুমার ও গ্রামের অপর বাসিন্দা দীনেশ রাজোয়ারের স্ত্রী কলাবতী রাজোয়ার মিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।

এর পরই আশঙ্কাজনক অবস্থায় জখম দয়াল রাজোয়ারাকে উদ্ধার করে বলরামপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গতকাল বিকেলে বলরামপুর থানায় মৃত দয়ালের ভাই গণেশ রাজোয়ার অভিযুক্ত ২ জনের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই ঘটনার পর অভিযুক্ত ২ জনই গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়। পুলিশের হোমগার্ড কর্মী সকালেই তার কর্মস্থল পুরুলিয়া শহরে ডিস্ট্রিক্ট ইন্টিলিজেন্স ব্রাঞ্চের অফিসে এসে হাজির হন। তিনদিন আগে তিনি গ্রামের বাড়ি তিলাই গিয়েছিলেন। অন্য জন কলাবতী রাজোয়ার পুরুলিয়ার মফস্বল থানার ঘঙ্গা গ্রামে তার এক আত্মীয়র বাড়িতে লুকিয়ে ছিলেন। পুলিশ খবর পেয়ে অভিযুক্ত ২ জনকেই বলরামপুর থানায় নিয়ে যায়। জেরা করার পর তাঁরা খুনের কথা কার্যত স্বীকার করে। তারা দুজনে পরিকল্পনা করে দয়ালকে খুন করেছে বলে পুলিশকে জানিয়েছে।

তাদের জেরা করে পুলিশ আরও জানতে পারে যে, কলাবতী রাজোয়ারের সাথে দয়ালের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। বেশ কিছুদিন এই সম্পর্ক থাকার পর তা নষ্ট হয়ে যায়। তারপর গ্রামের হোমগার্ড কর্মী মুক্তিপদ কুমারের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে কলাবতী। দয়াল সেই খবর জানার পর কলাবতির সাথে পুনরায় সম্পর্ক করতে চায়। কিন্তু কলাবতী ও মুক্তিপদ কেউ চাইছিলেন না দয়ালের সাথে পুনরায় সম্পর্ক গড়ে উঠুক। পথের কাঁটা দয়ালকে সরাতে দুজনে মিলে খুনের চক্রান্ত করে। বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে কলাবতীর বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় ফাঁকা জায়গায় তারা দুজনে দয়ালকে একা পেয়ে ছুরি দিয়ে পেটে ও মাথায় আঘাত করে। দয়াল রক্তাক্ত অবস্থায় ছুটে পালিয়ে আসে গ্রামের ক্লাবের কাছে। সেখানে এসে তার ভাইপো শুকদেবকে বলেন, “আমাকে মেরেছে, আমাকে হাসপাতালে নিয়ে চল।” শুকদেব দয়ালের বাড়ির লোকজনকে খবর দেয়।

গতকাল রাতেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের বিরূদ্ধে ভারতীয় দণ্ড বিধির ৩০২ ধারায় মামলা করা হয়েছে। এই ঘটনায় আর কেউ যুক্ত আছে কি না তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার করতে ও খুনের পুননির্মাণ করার জন্য অভিযুক্তদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন বলে জানায় পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *