চাপড়ায় সিবিআই প্রতিনিধিদলের গাড়ির চাকার হাওয়া খুলে দিয়ে আটকে রেখে তৃণমূলের বিক্ষোভ

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ২৮ আগস্ট:
সিবিআই প্রতিনিধি দলকে ঘিরে বিক্ষোভ। এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা। গাড়ির চাকার হাওয়া খুলে সিবিআইকে আটকে রেখে বিক্ষোভ। পঞ্চায়েতে তল্লাশি করার সময় বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা। নদীয়ার ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা হৃদয়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘটনা।

হাইকোর্টের নির্দেশে ভোট-পরবর্তী হিংসার তদন্ত করতে গতকাল হৃদয়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতে তদন্তে যায় সিবিআই প্রতিনিধি দল। সেখানে নিহত বিজেপি কর্মী ধর্ম মন্ডলের বাড়িতে যান তাঁরা। গত ১৪ মে দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন বিজেপি কর্মী ধর্ম মন্ডল (৫৬)। প্রথমে তাঁকে শক্তিনগর হাসপাতাল পরে অবস্থার অবনতি হলে কলকাতার এনআরএস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই ১৬ মে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। বিজেপির অভিযোগ, ভোটের সময় সক্রিয়ভাবে দলের সাথে যুক্ত থাকার কারণেই তাঁকে খুন করেছে তৃণমূল। এই ঘটনায় মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে ৮ জনের নামে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। পরে পরিবারের সদস্যদের গোপন জবানবন্দিতে আরো ১৫ জনের নাম উঠে আসে।

গতকালের পর আজ সকালে সুটিয়া’র হৃদয়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে দুয়ারে সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের ডাটা এন্ট্রির কাজ করছিল একজন অপারেটর, তিনি নাইট গার্ডেরও কাজ করেন। অভিযোগ সেই সময় সিবিআইয়ের একটি প্রতিনিধিদল স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে না নিয়েই পঞ্চায়েতে ঢুকে পড়ে। অন্যদিকে, সিবিআইয়ের অভিযোগ, ধর্ম মন্ডলের খুনের মামলায় ঐ নাইট গার্ডের নাম রয়েছে। সিবিআই প্রতিনিধিরা তাকে বেশ কিছুক্ষণ জেরা করেন। অভিযোগ সেই সময় রাজ্য সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প নিয়ে কটাক্ষ করেন এক সিবিআই আধিকারিক। এরপরই তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা জানতে পেরে পঞ্চায়েতে জমায়েত হয়। তারা সিবিআই প্রতিনিধিদের বিজেপির এজেন্ট বলে কটাক্ষ করে। এরপরই তাদের ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা। তারা সিবিআই প্রতিনিধিদের গাড়ির হাওয়া খুলে দেয়। পরে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে।

নিহত ধর্ম মন্ডলের ছেলের দাবি, তৃণমূলের গুন্ডা বাহিনী তার বাবাকে সেদিন বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে এসে মারধর করেছিল। তারা বিজেপি করে বলেই তাঁর বাবাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। বাবা একজন সক্রিয় বিজেপি কর্মী ছিল। আমরা অভিযুক্তদের শাস্তি চাই। পাশাপাশি তিনি বলেন, তারা পুলিশের তদন্তে খুশি নয়। কারণ তাঁর অভিযোগ, প্রথম যখন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তারা থানায় গিয়েছিলেন তখন চাপড়া থানা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেছিল। এছাড়াও এখনো মূল অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা কালু শেখ সহ মহেশ মন্ডল, লাল্টু ঘোষ, উজ্জ্বল ঘোষ, বিভাস বিশ্বাস, কিংকর বিশ্বাস ধরা পড়েনি। তারা বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সিবিআইকে আমরা পুরো ব্যাপারটা জানিয়েছি। সিবিআইয়ের তরফ থেকে আমাদের পূর্ণ সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।

শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী ধর্ম মন্ডল খুনের ঘটনায় আজ সিবিআই আধিকারিকরা অসীমা ঘোষ ও বিজয় ঘোষ নামে দুজনকে আটক করে চাপড়া থানায় নিয়ে আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *