সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২৫ মার্চ: মেজিয়া থানার সীতারামপুরে ডিভিসির মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিদ্যুৎবাহী উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন টাওয়ার লাইনে এক মহিলা উঠে পড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল সন্ধে থেকে আজ ভোর পর্যন্ত টানটান উত্তেজনার পর অবশেষে মহিলাকে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয় পুলিশ ও দমকল বাহিনী।
গতকাল সন্ধেয় কয়েকজন যুবক লক্ষ্য করেন গ্রাম সংলগ্ন হাইটেনশন টাওয়ারের উপর আচমকাই উঠে পড়েন এক মহিলা। নিমিষেই সেই মহিলা পৌঁছে যান হাইটনশন টাওয়ারের চূড়ায়। হাইটেনশন লাইনের টাওয়ারে চালু থাকা উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ তার শরীরে কোনো আচড় লাগাতে না পারলেও সিদ্ধার্থ মন্ডল নামে এক যুবক বলেন ওই মহিলা আত্মঘাতী হতে পারেন এই আশঙ্কায় ভয় পেয়ে যায়। স্থানীয় কোনো গৃহবধূ বাড়িতে ঝগড়া করে এসে টাওয়ার থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করতে এসেছেন ভেবে আমরা সিভিক ভলান্টিয়ারদের ঘটনার কথা জানাই। তারাই মেজিয়া থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে ওই মহিলাকে নীচে নেমে আসতে বহু কাকুতি মিনতি করে। কিন্তু কোনো কথাই তিনি শুনছিলেন না। দিব্যি সেইখানেই ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকলেন ওই মহিলা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ দমকল বিভাগকে পরিস্থিতির কথা জানিয়ে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। ততক্ষণে জেনারেটর দিয়ে আলো জ্বালানো হয়। দমকল কর্মীরা এসে পড়েন রাত ১০ টা নাগাদ। তাদের পক্ষেও সম্ভব হলো না ওই মহিলাকে নীচে নামানো।

অবশেষে খবর দেওয়া হয় ডিভিসির টাওয়ার লাইন তদারককারী কর্তা এবং বিপর্যয় মোকাবিলা টিমকে। তারা টাওয়ারের নীচে জাল পেতে সতর্ক হন। বিপর্যয় মোকাবিলা টিমের কর্মী, দমকল বাহিনীর লোকজন, পুলিশ এবং ডিভিসি কর্মীরা রাতভর নাকানি চোবানি খেতে থাকেন ওই মহিলাকে নামাতে। সকলের উদ্যোগে রাতভর অভিযানের পর ভোর ৫ টা নাগাদ নামানো সম্ভব হয় ওই মহিলাকে। দেখা যায় সম্পূর্ণ ভাবে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই মহিলার নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি পুলিশের। পুলিশ জানিয়েছে, পরিচয় জানতে না পারলে মহিলাকে কোনো হোমে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

