পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৭ মে: দেশব্যাপী আন্দোলনের চাপে গত ২ এপ্রিল কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রীর ঘোষণা করেন, “স্মার্ট মিটার লাগানো বাধ্যতামূলক নয়। জবরদস্তি কোথাও স্মার্ট মিটার লাগানো হবে না।” এবং গত ১২ জুন ২০২৫ পূর্বতন সরকারের বিদ্যুৎ মন্ত্রীর ঘোষণা মত “স্মার্ট মিটার লাগানো বন্ধ” দ্রুত কার্যকর করে লাগিয়ে দেওয়া স্মার্ট মিটার খুলে নেওয়া, ক্ষুদ্র শিল্পে মিনিমাম চার্জ প্রত্যাহার করা, গৃহস্থের ২০০ ইউনিট পর্যন্ত ও কৃষিতে বিনামূল্যে বিদ্যুতের দাবিতে ২ জুন বিদ্যুৎ ভবন অভিযানের আহ্বান জানিয়েছে অল বেঙ্গল ইলেকট্রিসিটি কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশন (ABECA)।
আজ বেলদায় বিদ্যুৎ গ্রাহকদের একটি সভা হয়। BECA পশ্চিম মেদনীপুর দক্ষিণ জেলা সভাপতি পূর্ণচন্দ্র পাত্রের সভাপতিত্বে এই গ্রাহক সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সুব্রত বিশ্বাস। এছাড়াও সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য বিদ্যা ভূষণ দে, রাজ্য কমিটির সদস্য দীপক পাত্র প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সাধারণ সম্পাদক সুব্রত বিশ্বাস বলেন, “জনবিরোধী বিদ্যুৎ বিল ২০২৫ প্রতিরোধে, স্মার্ট মিটার বসানোর RDSS প্রকল্প সম্পূর্ণ বাতিল, বিদ্যুতের সার্বিক বেসরকারিকরণের ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে দেশব্যাপী গ্রাহক আন্দোলন লাগাতার চালিয়ে যাচ্ছে অল ইন্ডিয়া ইলেকট্রিসিটি কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশন (AIECA)। ২০২০ সাল থেকে কর্পোরেট পন্থী এই বিদ্যুৎ বিলের বিরুদ্ধে প্রায় ১৭টি রাজ্যে তীব্র প্রতিরোধ আন্দোলন এবং দফায় দফায় পার্লামেন্ট অভিযান সহ রাজ্যে রাজ্যে নানান প্রতিরোধ আন্দোলন সংগঠিত হয়েছে। স্মার্ট মিটারে স্মার্টলি টাকা লুটের ষড়যন্ত্রের শিকার হওয়া গ্রাহকদের প্রতিরোধ আন্দোলন সম্প্রতি উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ সহ রাজ্যে রাজ্যে দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রের বিদ্যুৎ মন্ত্রী বাধ্য হয়েছেন স্মার্ট মিটার ‘জবরদস্তি না বসানোর’ কথা বলতে। এটি একটি মামুলি জয় নয়।
তিনি বলেন, একইভাবে গত বছর এ রাজ্যের কেন্দ্রীয় নীতিকে প্রয়োগ করতে যাওয়া রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র গ্রাহক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে পূর্বতন সরকারের মন্ত্রী বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছিলেন “স্মার্ট মিটার বন্ধ”। কিন্তু আজও চোরাগুপ্তা ভাবে স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বিদ্যুৎ দপ্তর। এছাড়া বসিয়ে দেওয়া স্মার্ট মিটার এখনো খুলে নেওয়া হয়নি। সেই সঙ্গে এ রাজ্যে ক্ষুদ্র শিল্পে বিপুল পরিমাণে মিনিমাম চার্জ (প্রতি KVA ২০০ টাকা) ও ফিক্সড চার্জের বোঝা চাপানোর পরিণতিতে হাজারে হাজারে ক্ষুদ্র শিল্প বন্ধ হয়েছে। এমতাবস্থায় সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী স্মার্ট মিটার খুলে নেওয়া, নতুন করে স্মার্ট মিটার না বসানো, ক্ষুদ্রশিল্পে ফিক্সড চার্জ, মিনিমাম চার্জ প্রত্যাহার করা ও গৃহস্থের ২০০ ইউনিট পর্যন্ত ও কৃষিতে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে বিদ্যুৎ বন্টন কোম্পানির চেয়ারম্যানের কাছে বিদ্যুৎ ভবনে ডেপুটেশনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ দপ্তর এ বছরের ট্যারিফ ঘোষণা করবে। তার আগেই আধিকারিকদের কাছে এই দাবিগুলি পেশের লক্ষ্যে সারা পশ্চিমবাংলা থেকে হাজার হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক কলকাতার করুণাময়ীতে জড়ো হয়ে মিছিল করে বিদ্যুৎ ভবনের উদ্দেশ্যে যাবেন। বিদ্যুতের অধিকার রক্ষার্থে এই আন্দোলনে সর্বস্তরের গ্রাহক সমাজ সামিল হোন।”

