আমাদের ভারত, ২০ এপ্রিল: শ্রমজীবী নাগরিকদের স্বার্থে রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী বেচারাম মান্নাকে ৬ দফা নির্দিষ্ট প্রস্তাব শ্রমিক কল্যাণ সমিতি।
সংগঠনের উপদেষ্টা পরিবেশ ও সমাজকর্মী বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় বুধবার জানান, “১) ১৯৪৭ সালের শিল্প বিরোধ আইন অনুযায়ী কোনও কারখানা মালিক সরকারের অনুমোদন ছাড়া কারখানা বন্ধ করতে পারেন না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে বেশ কিছু কারখানার মালিক সরকারের অনুমোদন ছাড়াই কারখানা বন্ধ করে দিচ্ছেন। কিন্তু শ্রম দফতর এই জাতীয় কাজকে বেআইনি বলে ঘোষণা করছেন না। আমরা চাই অবিলম্বে শ্রম আইন ভঙ্গকারী কারখানা মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
২) বিভিন্ন কারখানাতে ইচ্ছাকৃতভাবে স্থায়ী শ্রমিকের বদলে ঠিকা শ্রমিক বা অস্থায়ী শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে যা ভারতীয় সংবিধানের ৩০৯ ধারার পরিপন্থী। তাছাড়া বিভিন্ন কলকারখানাতে দীর্ঘকাল কাজ করার পরেও শ্রমিকদের স্থায়ীকরণ হচ্ছে না, যা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এবং এ ব্যাপারে শ্রম দফতরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
৩) বিভিন্ন কলকারখানাতে শ্রমিকদের গ্র্যাচুইটি না দেওয়াটাই এখন আইন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ গ্র্যাচুইটি না প্রদান করার জন্য শ্রম দফতর মালিকদের বিরুদ্ধে ১৯৭২ সালের গ্র্যাচুইটি আইনের ১১ ধারা অনুযায়ী কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না। তাই আমাদের প্রস্তাব গ্র্যাচুইটি আইন অনুযায়ী সমস্ত কলকারখানাতে গ্র্যাচুইটির বিষয়টিকে জীবনবীমার আওতায় আনা উচিত যাতে শ্রমিকরা জীবনবীমা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অবসরের পরেই গ্র্যাচুইটি পেতে পারে। কিছু কিছু সংস্থাতে এই পদ্ধতি চালু হয়েছে। আমাদের প্রস্তাব সমস্ত কলকারখানাতেই গ্র্যাচুইটি সংক্রান্ত বিষয়টি আবশ্যিকভাবে জীবনবীমার আওতায় আনা হোক।
৪) বন্ধ কলকারখানার শ্রমিকদের সরকারের পক্ষ থেকে ভাতা দেওয়ার একটি আইন আছে। এই ভাতা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। বর্তমান বাজারদরকে মাথায় রেখে এই ভাতা মাসে ন্যূনতম ৩০০০ টাকা হওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। যে সকল কারখানা একতরফাভাবে মালিকপক্ষের ইচ্ছায় বন্ধ হয়ে পড়ে আছে সেইসব ক্ষেত্রে এই ভাতার টাকা মালিকের কাছ থেকেই আদায় করা উচিত বলেও আমরা মনে করি।
৫) অতিমারির সময়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের দুঃখদুর্দশার কথা সর্বজনবিদিত। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ইঁটখোলা, পাথরকল ও খাদানে যে কয়েক লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক কাজ করেন তাঁদের প্রত্যেকের নাম নথিভুক্ত করার কাজ অবিলম্বে আরম্ভ করা হোক শ্রমদপ্তরের মাধ্যমে এবং তাঁদের ক্ষেত্রে সকল আইনগত সুযোগসুবিধাগুলি কার্যকরী হওয়া উচিত।
৬) রাস্তায় রাস্তায় যে সমস্ত মহিলা বা পুরুষ বর্জ্য সংগ্রহ করেন পৌর বর্জ্য আইনে (২০১৬) তাঁদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। শ্রম দফতরের পক্ষ থেকেও এই সমস্ত গরিব প্রান্তিক শ্রমজীবী ব্যক্তিদের শ্রমিক হিসেবে সঠিক মর্যাদা দেওয়া হোক এবং তাঁদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প চালু করা হোক।

