Budget, BJP, রাজ্যে নয়া ৫ জেলা, আইনের শাসন বলবতে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো তৈরীর ঘোষণা, একাধিক জনমুখী পদক্ষেপ রাজ্য বাজেটে

আমাদের ভারত, ২২ জুন: নতুন পাঁচ পাঁচটি জেলা পেতে চলেছে রাজ্যবাসী। সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সেখানেই একাধিক প্রশাসনিক এবং পরিকাঠামোগত পদক্ষেপের কথাও ঘোষণা করেন তিনি। জানান যে, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে রাজ্যের নতুন পাঁচটি জেলা গঠন করা হচ্ছে।

রাজ্যের বিজেপি সরকারের তরফে যে পাঁচটি নতুন জেলা গঠনের কথা বলা হয়েছে সেগুলি হলো কলকাতা, বসিরহাট, সুন্দরবন, জঙ্গিপুর, আরামবাগের পাশাপাশি কাঁথিতে এদিন নতুন পুলিশ জেলা গঠনের কথা বলা হয়েছে। ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লবপুরে তৈরি হবে নতুন মহকুমা, আর নতুন পুরসভা হবে দার্জিলিং- এর শিব মন্দির, মালদহের গাজোল, চাঁচোল, পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা, হাওড়ার বাগনান, পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট, হুগলির কামারপুকুর, উত্তর দিনাজপুরের টুঙ্গিদিঘি, আলিপুরদুয়ারের জয়গাঁ। মালদহের মানিকচক, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার মতো কয়েকটি জায়গায় নতুন দমকল কেন্দ্র তৈরি কথাও বলা হয়েছে।

কলকাতাকে আলাদা জেলার স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও একটু বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।অনেকেই বলছেন, কলকাতা তো এমনিতেই একটি জেলা, তাহলে রাজ্যের রাজধানীকে নিয়ে আলাদা করে জেলা গঠনের কথা কেন বলা হচ্ছে? যদিও প্রশাসনিক সূত্রে বলা হচ্ছে,
কলকাতা’কে জেলা হিসেবে ধরা হয় ঠিকই, কিন্তু অন্যান্য জেলার মতো কলকাতায় প্রশাসনিক কাজ হয় না, আলাদা ভাবে হয়। প্রশাসনিক কাঠামো ভিন্নতার কারণ, এখানে কোনো জেলা শাসক থাকে না, থাকেন একজন কালেক্টর, যার কাজ মূলত রাজস্ব সংগ্রহ করা।

এছাড়া রাজ্য সরকারের যে কোনো দপ্তর কলকাতায় সরাসরি কাজ করে বলে মানুষকে যে কোনো প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যেতে হয়। মাঝখানে কিছু নেই, অথচ অন্য জেলাগুলিতে প্রশাসনিক কাজের ক্ষেত্রে অনেকগুলি স্তর আছে। রাজ্য দপ্তর থেকে নির্দেশ দেওয়ার পর সেটা জেলা শাসকের কাছে যায়। সেখান থেকে যায় মহাকুমা শাসকের কাছে।কলকাতায় এখনো পর্যন্ত তেমন ব্যবস্থা নেই। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, জেলায় যেভাবে প্রশাসনিক কাজকর্ম চলে এবার কলকাতাতেও সেভাবেই চলবে। মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে কলকাতার মানুষ উপকৃত হবেন।

সোমবার পুরুলিয়া, দক্ষিণ দিনাজপুর, বালুরঘাট এবং মালদহে তিনটি নতুন বিমানবন্দর তৈরির কথা বলা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, কোচবিহারে যে বিমানবন্দরটি চালু রয়েছে সেটিকে আরো সম্প্রসারিত করা হবে। তার জন্য চলতি অর্থবর্ষে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করছে রাজ্য। নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে হাঁসিমারার বিমান ঘাঁটি সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় উন্নয়নের জন্য ২৫ একর জমি দিচ্ছে রাজ্য। একই কারণে কলকাতায় বায়ু সেনা’কে ৩৭ একর জমি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, কলকাতা বিমানবন্দরের উপর যাত্রীদের চাপ কমাতে নদীয়ার কল্যাণীর কাছে একটি গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর তৈরি করা হবে।এই বিমানবন্দরের জন্য এক হাজার থেকে ১০০০-১৫০০ একর জমি শনাক্ত করবে রাজ্য।

সোমবার ১ লক্ষ শূন্য পদে নিয়োগের কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। এই নিয়োগের ক্ষেত্রে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ থাকছে। ৫০ হাজার শূন্য পদে অধ্যাপক, শিক্ষক, অ-শিক্ষক কর্মী নিয়োগ করা হবে। পুলিশে চাকরি হবে কুড়ি হাজারের। পাশাপাশি স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, বিধায়ক তহবিলে বার্ষিক টাকার পরিমাণ ৭০ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে এক কোটি করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *