CM, Mohoboni, শহিদ ক্ষুদিরামের জন্মভূমি মোহবনির উন্নয়নে ৫ কোটি টাকা, আত্মবলিদান দিবসে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

কুমারেশ রায়, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১১ আগস্ট: শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবসে তাঁর জন্মভূমি পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহবনিতে এসে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। শহিদের স্মৃতি ও জন্মভূমির উন্নয়নে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দর কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় মোহবনিবাসী আনন্দিত।

১১ আগস্ট শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবস। ১৯০৮ সালের এই দিনেই মাত্র ১৮ বছর বয়সে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার লড়াইয়ে আত্মবলিদান দিয়েছিলেন ক্ষুদিরাম, যা দেশবাসীর হৃদয়ে আজও অমলিন। তাঁর জন্ম ১৮৮৯ সালের ৩ ডিসেম্বর বর্তমান পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর থানার অন্তর্গত মোহবনি গ্রামে। শহিদের আত্মবলিদান দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার মোহবনিতে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি ঘিরে সকাল থেকেই এলাকায় ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও উন্মাদনা।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় বলা হয়েছে, মোহবনি উন্নয়ন পর্ষদের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৫ কোটি টাকা দেওয়া হবে। এই অর্থে শহিদের জন্মস্থানকে আরও সুন্দর ও আকর্ষণীয় তথা সংস্কার করে তোলার পাশাপাশি এলাকার পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। তৈরি হবে মিউজিয়াম গ্যালারি এবং লেজার শো। মুখ্যমন্ত্রীর আরও ঘোষণা শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর জীবনী এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অবদান প্রাথমিক স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্তর পর্যন্ত পড়ানো হবে। ইতিমধ্যেই মোহবনির রাস্তা, পানীয় জল, পথবাতি, খেলার মাঠের মতো একাধিক উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে।

শহিদ ক্ষুদিরামের জন্মভূমি মোহবনিকে শুধু একটি গ্রাম হিসেবে নয়, স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি দীর্ঘদিনের। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মোহবনিতে শহিদ ক্ষুদিরামের স্মৃতি সংরক্ষণ ও পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নই হবে অন্যতম লক্ষ্য। শহিদের বংশধরদের তরফেও মোহবনির সার্বিক উন্নয়নের দাবি জানানো হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংসদ থাকাকালীন এই গ্রামে এসেছিলেন এবং ‘ক্ষুদিরামে কিছুক্ষণ’ নামে একটি প্রতীক্ষালয় উদ্বোধন করেছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। তবে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মোহবনিতে তাঁর এই উপস্থিতি বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এদিনের ৫ কোটি টাকার ঘোষণাকে তাই শুধু আর্থিক বরাদ্দ হিসেবে দেখছেন না মোহবনিবাসী। তাঁদের আশা, এই বরাদ্দর মাধ্যমে শহিদের জন্মভূমি আরও সুসজ্জিত হবে, উন্নত হবে যোগাযোগ ও নাগরিক পরিষেবা এবং ভবিষ্যতে দেশ- বিদেশের মানুষ শহিদ ক্ষুদিরামের জন্মস্থান দেখতে আরও বেশি করে আসবেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টারে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় কপ্টারটি কোলাঘাটে অবতরণ করে। মুখ্যমন্ত্রী সড়কপথে মোহবনি যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *