স্বরূপ দত্ত, উত্তর দিনাজপুর, ১৩ জুলাই: “বিজেপিতে থেকে কোনও উন্নয়নমূলক কাজ করা যাচ্ছে না, শুধুই জাতপাত আর বিভেদের রাজনীতি করে বিজেপি।” তাই বিজেপি ছেড়ে গ্রামের উন্নয়নের লক্ষ্যে এবং মানুষের পাশে দাঁড়াতে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলেন রায়গঞ্জ ব্লকের ৩ নং মহীপুর গ্রামপঞ্চায়েতের উপপ্রধান সহ ৫ জন বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্য। ফলে বিজেপির দখলে থাকা ৩ নং মহীপুর গ্রামপঞ্চায়েত আজ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে এল।
২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে রায়গঞ্জ ব্লকের ৩ নম্বর মহীপুর গ্রামপঞ্চায়েতের দখল নিয়েছিল বিজেপি। মোট ১৮ সদস্যের পঞ্চায়েতে বিজেপি পেয়েছিল ১১ টি আসন, তৃণমূল কংগ্রেস ৫ টি এবং সিপিএম-কংগ্রেস জোট পেয়েছিল ১ টি আসন। ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যের তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস। এরপর থেকেই একে একে বিজেপির দখলে থাকা একের পর এক গ্রামপঞ্চায়েত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে থাকে। বিজেপি সদস্যরা দলে দলে তৃণমূল কংগ্রেসে নাম লেখাতে শুরু করে। এদিন রায়গঞ্জ ব্লকের বিজেপি পরিচালিত ৩ নং মহীপুর গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনে তৃণমূল কংগ্রেস।
বিজেপির উপপ্রধান সহ ৫ জন এবং জোটের ১ জন পঞ্চায়েত সদস্য তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে ভোট দিয়ে বিজেপি বোর্ডের বিরুদ্ধে অনাস্থা পাশ করিয়ে নেয়। এরফলে বর্তমানে ৩ নং মহীপুর গ্রামপঞ্চায়েতের ১৮ জন সদস্যের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের দাঁড়ালো ১০ জন, জোট ১ এবং বিজেপির ৬ জন। অনায়াসেই মহীপুর গ্রামপঞ্চায়েতের বোর্ড দখল করল তৃণমূল কংগ্রেস।
তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদানকারী দলত্যাগী বিজেপির উপপ্রধান জানিয়েছেন, বিজেপিতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং অযোগ্য প্রধানের বিরুদ্ধেই অনাস্থা এনে গ্রামের সাধারন মানুষকে উন্নয়ন ও পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন তাঁরা।
রায়গঞ্জ ব্লক তৃনমূল কংগ্রেস সভাপতি মানস ঘোষ জানিয়েছেন, বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূল পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর দলে দলে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করছেন। গ্রামের মানুষের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে বিজেপি ছেড়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নে শামিল হতেই পঞ্চায়েতের বোর্ড পরিবর্তন করলেন মহীপুর গ্রামপঞ্চায়েতের সদস্যরা।

