DG, Police, Central forces, ২০০ এফআইআর ৮০০-র বেশি গ্রেফতার, অশান্তি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে যৌথ কন্ট্রোল রুম পুলিশের, বুলডোজার নিয়ে কড়া বার্তা ডিজির

আমাদের ভারত, ৬ মে: বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অশান্তির খবর আসছে। আর তাতেই তৎপর হয়েছে রাজ্য পুলিশ। বুধবার বিকেলে ভবানী ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত। তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বশক্তি দিয়ে ময়দানে নেমেছে।

ডিজি জানান আসানসোল, কোচবিহার, বারুইপুর এলাকা থেকে তুলনামূলক ভাবে বেশি গোলমালের খবর পাওয়া গেছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন, আজ নতুন করে কোনো বড় ধরনের অশান্তির খবর নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ময়দানে রয়েছে।

ডিজির দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে অন্তত ২০০টি এফআইআর হয়েছে। নানুর এবং নিউটাউন মিলিয়ে দুই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে সিদ্ধিনাথ গুপ্ত কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। রাজ্যে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করুন।

তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে অশান্তি ছড়ানোর জন্য ৮৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ১১০০ জনকে প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট বা আগাম আটক করা হয়েছে।

তবে এদিনের বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী সমন্বয়ে জয়েন্ট কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে রাজনৈতিক হিংসার ভয়ে সাধারণ মানুষ থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে সাহস পাচ্ছে না। সেই সমস্যা সমাধানে ডিজি নির্দেশ দিয়েছেন, যেখানে ভয় বা আতঙ্কের কারণে কেউ এফআইআর করতে পারবেন না সেখানে পুলিশ নিজেই সুয়োমোটো বা স্বতঃপ্রণোদিত মামলার রুজু করবে। আক্রান্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান অগ্রাধিকার।

সম্প্রতি বিভিন্ন বিজয় মিছিলে বুলডোজার বা জেসিবি ব্যবহার করে ভয় দেখানোর মতো প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তা নিয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভবানী ভবন। ডিজি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বুলডোজার নিয়ে দাপাদাপি বা কাউকে আতঙ্কিত করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ জানিয়েছে, রাজ্যের প্রতিটি স্পর্শকাতর এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং শান্তি বিঘ্নিত করার কোনো প্রচেষ্টাই সফল হতে দেওয়া হবে না। প্রশাসনের এই তৎপরতা রাজ্যবাসীর মধ্যে আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *