আমাদের ভারত, ৩০ নভেম্বর:মথুরার শাহী ইদগাহ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রকৃত জন্মস্থান বলে দাবি জানিয়েছে হিন্দু মহাসভা। এই নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে। তার মধ্যেই শাহী ইদগাহে ভগবান কৃষ্ণের মূর্তি স্থাপন করার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সারা ভারত হিন্দু মহাসভা। আর তারপরই এলাকায় অশান্তি এড়াতে মথুরা জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
উত্তরপ্রদেশের মথুরায় শাহী ইদগাহে আগামী ৬ ডিসেম্বর কৃষ্ণের মূর্তি স্থাপনের ঘোষণা করেছে হিন্দু মহাসভা। এই ঘোষণার পরই এলাকার পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। পুলিশ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। একই সঙ্গে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনও বড় অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হওয়ার জন্য জনগণকে অনুরোধ করা হয়েছে। হিন্দু মহাসভা ঘোষণা করেছে আগামী ৬ ডিসেম্বর শাহী মসজিদ ইদগাহে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জলাভিষেক করা হবে। উল্লেখ্য স্থানীয় আদালতে কয়েক শতাব্দী প্রাচীন এই মসজিদটি অপসারণের আবেদনের শুনানিও চলছে। আদালতে শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি কমপ্লেক্সের মালিকানার অধিকার দাবি করা হয়েছে। অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা ঘোষণা করেছে তারা মথুরা মন্দিরে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের একটি মূর্তি তার আসল জন্ম স্থানে স্থাপন করবে। হিন্দু মহাসভার দাবি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আসল জন্মস্থান হল বিখ্যাত মন্দির সংলগ্ন মসজিদে।
মথুরার কওমি মঞ্চের সদস্যরা আগামী ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত এলাকায় নিরাপত্তা দাবি করে বলেছেন, শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান এবং শাহী ইদগাহ এর মধ্যে চুক্তির পর প্রায় ৫৩ বছর হয়ে গেছে,আমরা এটা ভাঙতে দিতে পারি না।
ঘটনার প্রেক্ষিতে জেলাশাসক জানিয়েছেন কাউকে মথুরার শান্তি বিঘ্নিত করতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে হিন্দু মহাসভার পাশাপাশি আরও কয়েকটি ডানপন্থী সংগঠন নারায়ণী সেনা মসজিদ অপসারণের দাবি করেছে। এই দাবিতে তারা বিশ্রাম ঘাট থেকে শ্রীকৃষ্ণ জন্মস্থান পর্যন্ত একটি পদযাত্রা শুরু করলেও আটকে দেওয়া হয়।
এদিকে উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে শোরগোল পড়েছে। একটি নিউজ চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, অযোধ্যা হয়ে গিয়েছে এবার কাশী-মথুরার পালা। তিনি বলেন, ‘অযোধ্যায় ভগবান রামলালার মন্দির নির্মাণে ভক্তরা খুশি। আন্দোলনের সময় আমরা যেমন স্লোগান দিতাম অযোধ্যা এখন আমাদের, এবার কাশী-মথুরার পালা। কাশী ও মথুরা উভয়ই আমাদের। কাশীতেও করিডোর করা হয়েছে। এবার কৃষ্ণ জন্মভূমির পালা।’

