আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ৩১ জুলাই: যশোর রোডে শুকনো ডাল ভেঙ্গে প্রাণহানির ঘটনার পর নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। রাস্তার পাশে থাকা মৃত ও বিপজ্জনক গাছ চিহ্নিত করে দ্রুত কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ১১টি মৃত গাছ চিহ্নিত করা হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই গাছ কাটার কাজ শুরু হবে বলে জানালেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী তথা বনগাঁর বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া।
চলতি মাসের ৫ তারিখ যশোর রোডে শুকনো গাছের ডাল ভেঙ্গে মৃত্যু হয়েছিল বনগাঁর সিকদারপল্লির বাসিন্দা ২৫ বছরের যুবক বাপন বিশ্বাসের। সংসারের একমাত্র রোজগেরে সদস্যকে হারিয়ে কার্যত বিপাকে পড়ে পরিবারটি। বাপনের ছোট ভাই এখনও নাবালক। শুক্রবার বাপনের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সিকদারপল্লির বাড়িতে পৌঁছোন মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। তাঁর উপস্থিতিতে বনগাঁর মহকুমা শাসক শুভম মৌর্য মৃতের পরিবারের হাতে রাজ্য সরকারের তরফে ৪ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্যের চেক তুলে দেন। এদিন পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন মন্ত্রী। বাপনের নাবালক ভাই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তার ভবিষ্যৎ পথচলায় ব্যক্তিগতভাবে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

বাপন বিশ্বাসের মৃত্যুর পর থেকেই যশোর রোডের মৃত ও বিপজ্জনক গাছ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার দু’ধারে থাকা বহু গাছ শুকিয়ে গিয়েছে। শুকনো ডাল ভেঙ্গে আগেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারপরেও বিপজ্জনক ডাল বা মৃত গাছ সরানোর ক্ষেত্রে যথেষ্ট তৎপরতা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এদিন মন্ত্রী জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যশোর রোডের বিপজ্জনক গাছ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ১১টি মৃত গাছ চিহ্নিত করা হয়েছে। টেন্ডারও পাশ হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই সেগুলি কাটার কাজ শুরু হবে। বাপনের পরিবারের আক্ষেপ, এই উদ্যোগ যদি আরও আগে নেওয়া হত, তাহলে হয়তো তাদের ছেলেকে এভাবে হারাতে হত না।
পরিবারের দাবি, যশোর রোডে এর আগেও গাছের ডাল ভেঙ্গে একাধিক মানুষের প্রাণ গিয়েছে। তাই দ্রুত সব বিপজ্জনক ডাল ও মৃত গাছ সরিয়ে রাস্তা নিরাপদ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

