জে মাহাতো, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৫ মার্চ: মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্যজুড়ে বোমা ও বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার প্রক্রিয়ার প্রথম দিনই কেশপুর থেকে প্রায় ১০০টি তাজা বোমা উদ্ধার করল পুলিশ। জানাগেছে, মোট চারটি বালতিতে রাখা ছিল বোমাগুলি। এতগুলো বোমা উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কেশপুর থানার ধলহারা ১৩ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। রামপুরহাট কাণ্ডের পর কেশপুরের হুরুলুলুরডাঙা সহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি তল্লাশি হতে পারে আশঙ্কা করেই কেউ বা কারা আগে ভাগে বোমাগুলি বাইরে রেখে দিয়ে গেছে বলে পুলিশ মনে করছে।
বোমা মজুদ রাখার খবর পাওয়ার পরই হুরুলুলুরডাঙা এলাকায় পৌঁছে ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে কেশপুর থানার পুলিশ। খবর দেওয়া হয় বম্ব স্কোয়াডে। মেদিনীপুর থেকে স্কোয়াডের সদস্যরা পৌঁছানোর পর বোমাগুলি নিষ্ক্রিয় করা হয়।
উল্লেখ্য, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার যে কয়েকটি জায়গা বোমা এবং বেআইনি অস্ত্র কারবারের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত তার অন্যতম এই কেশপুর। বর্তমানে এলাকায় বিরোধী শক্তি সেভাবেই না থাকলেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জীর্ণ শাসক দল। ফলে উদ্ধার হওয়া বোমাগুলি আত্মরক্ষার স্বার্থে দুই গোষ্ঠী মজুত করেছিল বলে এলাকার বাসিন্দারা মনে করছেন। বোমাগুলি কারা মজুদ করেছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার রামপুরহাটের বগটুই গণহত্যাকান্ড স্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই তিনি রাজ্যে যেখানে যত বেআইনি বোমা রয়েছে অবিলম্বে তা উদ্ধার করে নষ্ট করার কড়া নির্দেশ দেন। এরপরই আগামী ১০ দিনের জন্য সমস্ত পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়। রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশকের নির্দেশে রাজ্যজুড়ে পুলিশের তৎপরতা শুরু হয়েছে।

