আমাদের ভারত, ২৫ মার্চ: ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল উত্তরপ্রদেশের মাদ্রাসা বোর্ড। শুধুমাত্র ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করাই নয় দেশাত্মবোধের ভাবনা জাগানোর অত্যন্ত জরুরি মাদ্রাসা পুড়ুয়াদের মধ্যে। সেই কারণেই উত্তরপ্রদেশের মাদ্রাসাগুলিতে পুড়ুয়াদের এবার বাধ্যতামূলকভাবে গাইতে হবে জাতীয় সংগীত।
পাঁচ বছরের আগে উত্তরপ্রদেশের সব মাদ্রাসায় স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সংগীত গাওয়া বাধ্যতামূলক করেছিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। কারণ তার আগে স্বাধীনতা দিবসে সব মাদ্রাসায় পতাকা উত্তোলন বা জাতীয় সংগীত গাওয়া হতো না। কিন্তু গত ৫ বছর ধরে নিয়মিত স্বাধীনতা দিবসে পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হচ্ছে সেখানকার মাদ্রাসাগুলিতে। কিন্তু এই বিষয়টি সীমাবদ্ধ ছিল ওই স্বাধীনতা দিবস পর্যন্তই। সরকারি স্কুলে যেমন নিয়মিত জাতীয় সংগীত গাওয়া হয় মাদ্রাসাগুলির ক্ষেত্রে সেটা হতো না। তবে এবার জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার বিষয়টিকে বাধ্যতামূলক করল উত্তরপ্রদেশের মাদ্রাসা বোর্ড।
উত্তরপ্রদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, এবার থেকে স্কুলের পঠন-পাঠন শুরু হবার আগেই সকালে যখন প্রার্থনা শুরু হয় তখন মাদ্রাসার পড়ুয়াদের জাতীয় সংগীত গাইতে হবে। মাদ্রাসা বোর্ড জানিয়েছে, রাজ্যের সব স্কুলে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। তাই তারাও চান তাদের পড়ুয়াদের মধ্যেও দেশাত্মবোধের ভাবনা জাগ্রত হোক। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি ভারতের ইতিহাসকে ভালো করে জানুক মাদ্রাসার পড়ুয়ারা। তাই আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে মাদ্রাসায় প্রতিদিন জাতীয় সংগীত গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
স্বাভাবিক ভাবেই মাদ্রাসা বোর্ডের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিজেপি। তবে শুধু জাতীয় সংগীত গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে তা নয়, আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে উত্তরপ্রদেশের মাদ্রাসা বোর্ড। এবার থেকে মাদ্রাসার পড়ুয়াদের গতিবিধির উপর নজরদারি চালাতে তাদের উপস্থিতির বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন করানো হবে। প্রতিদিন ক্লাস শুরুর আগেই উপস্থিতির প্রমাণ হিসেবে বায়োমেট্রিক রেজিস্টার করতে হবে পড়ুয়াদের। এই বায়োমেট্রিক তথ্য লিংক করা থাকবে আধার কার্ডের সঙ্গে। মূলত পড়ুয়াদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

