আমাদের ভারত, ২৭ এপ্রিল: লাউডস্পিকার বিতর্ক যখন তুঙ্গে তখন এই ইস্যুতে বড় পদক্ষেপ করল যোগী সরকার। উত্তরপ্রদেশের ১৭ হাজার ধর্মীয় স্থান থেকে লাউডস্পিকার সরানো হলো। আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই অভিযান চলবে। একই সঙ্গে যেখানে লাউডস্পিকারের অনুমোদন রয়েছে সেখানে তার শব্দের মাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে।
দিন কয়েক আগে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছিলেন, সে রাজ্যের ধর্মীয় স্থানে লাউডস্পিকার ব্যবহার করা যেতে পারে তবে তা অনুমতি সাপেক্ষে। একইসঙ্গে যোগী বলেছিলেন, লাউডস্পিকারের আওয়াজ যেনো ধর্মস্থানের বাইরে না যায়। তারপরেই লাউডস্পিকার নিয়ে পদক্ষেপ করল যোগী সরকারের প্রশাসন। জানা যাচ্ছে, সারা রাজ্যের প্রায় ১৭ হাজার ধর্মীয় স্থান থেকে লাউডস্পিকার নামানো হয়েছে। অনেক ধর্মীয় স্থানগুলোতে যারা দায়িত্বে রয়েছেন তারা নিজেরাই এই পদক্ষেপ করেছেন। এছাড়াও ১২৫ টি জায়গা থেকে লাউডস্পিকার সরানো হয়েছে বলে জানিয়েছে উত্তর প্রদেশে পুলিশের অতিরিক্ত ডিজি আইন-শৃঙ্খলা প্রশান্ত কুমার। একই সঙ্গে যেখানে লাউডস্পিকার আছে সেখানে তার শব্দের মাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই অভিমান আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে বলে জানা গেছে।
রাজ্যে ইদের দিন নমাজ পড়া নিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিজি। লাউডস্পিকার সরানোর ইস্যুতে ৩৭ হাজার ৩৪৪ জন ধর্মীয় নেতার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই রামনবমীতে দেশের একাধিক রাজ্যে অশান্তির ঘটনার আবহে যোগী আদিত্যনাথ দাবি করেছিলেন, উত্তরপ্রদেশের দাঙ্গা তো দূর অস্ত ‘তু তু ম্যায়ও’ হয়নি। অনুমতি ছাড়া ওই রাজ্যে কোনও ধর্মীয় শোভাযাত্রা করে যাবে না এমন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঘিরে যাতে উত্তরপ্রদেশে কোনও রকম অশান্তির ঘটনা না ঘটে তা সুনিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনকে ঢেলে সাজিয়েছেন যোগী। সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনও একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ধর্মীয় কর্মসূচি পালন করা যেতে পারে। এর জন্য কোনওভাবেই রাস্তা আটকানো যাবে না। একইসঙ্গে বলা হয়েছিল, লাউডস্পিকার ব্যবহার করা যেতে পারে কিন্তু তা যেন অন্যের বিরক্তির কারণ না হয়। এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখারও বার্তা দেওয়া হয়েছিল সরকারের তরফে।

