আমাদের ভারত, কলকাতা, ২৯ অক্টোবর: সেন্ট্রাল কলকাতা পোস্টাল ডিভিশনকে উত্তর কলকাতা ও পূর্ব কলকাতার মতো অন্যান্য ডিভিশনের সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রস্তাবের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার যোগাযোগ ভবনের সামনে বিক্ষোভ ও অনশন ধর্মঘটে সামিল হলেন ভারতীয় পোস্টাল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের কর্মীরা।
সংগঠনের দাবি, ঐতিহ্যবাহী সেন্ট্রাল কলকাতা ডিভিশনের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বজায় রাখতে হবে। ডিভিশনকে অন্য ডিভিশনের সঙ্গে মার্জ করার পরিবর্তে তার পরিকাঠামো ও পরিষেবার উন্নয়নে জোর দিতে হবে।

সংগঠনের প্রতিনিধিদের অভিযোগ, এই মার্জার কার্যকর হলে কর্মীদের পোস্টিং, চাকরির নিরাপত্তা, কর্মীকল্যাণ এবং প্রশাসনিক কাজকর্ম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। দীর্ঘ ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে সেন্ট্রাল কলকাতা ডিভিশনে কর্মরত কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, ডিভিশনের স্বতন্ত্র পরিচয় ও প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে গেলে কর্মীদের ছুটি, গ্র্যাচুইটি, নথিপত্র এবং অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত কাজকর্মে জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভারতীয় পোস্টাল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের পশ্চিমবঙ্গ সার্কেলের সার্কেল সেক্রেটারি স্বর্ণেন্দু চক্রবর্তী বলেন, “সেন্ট্রাল কলকাতা একটি ঐতিহ্যবাহী ডিভিশন। একে অন্য ডিভিশনের সঙ্গে মার্জ করা উচিত নয়। যেখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডিভিশন বাড়ানো ও প্রশাসনিক পরিকাঠামো উন্নত করার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশনকে অন্যের সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রস্তাব উদ্বেগজনক।”
অন্যদিকে, সংগঠনের সেন্ট্রাল কলকাতা ডিভিশনের ডিভিশনাল সেক্রেটারি দেবদত্ত রায়ের বক্তব্য, এই মার্জারের ফলে শুধু কর্মীদের নয়, সাধারণ গ্রাহকদেরও সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে। তাঁর দাবি, এতদিন সেন্ট্রাল কলকাতা ডিভিশনের আওতায় থাকা গ্রাহকরা নিজেদের এলাকার মধ্যেই বিভিন্ন পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করতে পারতেন। কিন্তু মার্জারের পরে তাঁদের নথিপত্র বা অন্যান্য প্রশাসনিক কাজের জন্য বেলগাছিয়া কিংবা নিউ টাউনের মতো দূরবর্তী এলাকায় যেতে হতে পারে।
বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের কথা তুলে ধরে দেবদত্ত রায় বলেন, বউবাজার ও বড়বাজার এলাকার বহু গ্রাহকের বয়স ষাটের বেশি। তাঁদের কোনও পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের জন্য দূরে যেতে হলে যথেষ্ট ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে।

স্বর্নেন্দু চক্রবর্তী বলেন, রাজভবন, ফোর্ট উইলিয়াম, বিধানসভা ও রাইটার্স বিল্ডিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলি এই সার্কেলের মধ্যে রয়েছে। তাঁর মতে, ডিভিশনের কাঠামো বদলে গেলে ওই এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ গ্রাহকদের ডাক পরিষেবা সংক্রান্ত কাজেও অসুবিধা হতে পারে।
সংগঠনের বক্তব্য, তাদের আন্দোলন শুধুমাত্র কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়; ডাক বিভাগের পরিষেবা গ্রহণকারী সাধারণ মানুষের সুবিধা বজায় রাখাও এই আন্দোলনের অন্যতম উদ্দেশ্য। তাই সেন্ট্রাল কলকাতা ডিভিশনের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বজায় রাখা এবং প্রস্তাবিত মার্জারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
এদিকে, অনশন ধর্মঘট চলাকালীন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সার্কেলের চিফ পোস্টমাস্টার জেনারেলের আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেবদত্ত রায়। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁদের প্রস্তাবগুলি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি, বিষয়টি যাতে কর্মীদের স্বার্থের পরিপন্থী কোনও সিদ্ধান্তের দিকে না যায়, সে দিকেও নজর রাখার আশ্বাস মিলেছে বলে সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে।

