পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৮ অক্টোবর: বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগের উদ্যোগে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এ. পি. জে. আব্দুল কালাম সভাগৃহে ‘উদ্যোক্তা: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক বিশেষ বক্তৃতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্যোগ গড়ে তোলার মানসিকতা সৃষ্টি, উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলার উপায় সম্পর্কে ধারণা দেওয়াই ছিল এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য।

দুপুর সাড়ে বারোটায় চারাগাছে জল অর্পণের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর অধ্যাপক অভিজিৎ সিনহা স্বাগত ভাষণ দেন। উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পুষ্পস্তবক দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য তাঁর উদ্বোধনী ভাষণে উদ্যোক্তা হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের ‘চাকরিপ্রার্থী’ হওয়ার পরিবর্তে ‘চাকরিদাতা’ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্ভাবনী চিন্তার প্রসার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে উদ্যোগপতিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা পার্থ সারথি মণ্ডল, স্পন্দন হসপিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রাইভেট লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা- পরিচালক (Founding Director) এবং একজন স্বনামধন্য উদ্যোক্তা, তাঁর দীর্ঘ উদ্যোক্তা জীবনের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব শিক্ষা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন। একেবারে শূন্য থেকে যাত্রা শুরু করে তাঁর প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড বর্তমানে আটটি রাজ্যে বিস্তৃত হয়েছে। তাঁর এই সাফল্যের কাহিনি উদ্যোগ, দৃঢ় সংকল্প ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার গুরুত্বকে তুলে ধরে।বক্তৃতায় শ্রী মণ্ডল বিশেষভাবে প্রথম প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা করেন। পারিবারিক ব্যবসার পূর্ব অভিজ্ঞতা, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক পরিকাঠামো কিংবা পরিচিত ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের সুবিধা ছাড়াই যাঁদের উদ্যোগ শুরু করতে হয়, তাঁদের নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল ভাষায় তিনি এই সমস্যাগুলি ব্যাখ্যা করেন এবং ব্যবসা পরিচালনার সময় উদ্ভূত চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত কৌশল তুলে ধরেন।

তিনি উদ্যোক্তা হিসেবে সাফল্য অর্জনের জন্য দৃঢ় সংকল্প, সুনির্দিষ্ট ব্যবসায়িক পরিকল্পনা এবং পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা— এই তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, প্রতিকূলতার মধ্যেও অবিচল থাকা, পরিকল্পিতভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা এবং বাজারের পরিবর্তিত চাহিদা অনুযায়ী কৌশল গ্রহণ করা একটি উদ্যোগের স্থায়িত্ব ও সম্প্রসারণের অন্যতম প্রধান শর্ত।
বক্তৃতার পর একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বক্তার সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ পান। অনুষ্ঠানের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ব্রজবল্লভ পাল তাঁর সমাপনী বক্তব্যে বর্তমান ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্যোক্তা- মানসিকতা গড়ে তোলা এবং উদ্যোগ গ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। অধ্যাপক টগর লাল খান মহাশয়ের ধন্যবাদজ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

সমগ্র অনুষ্ঠানটির সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক তারক নাথ সাহু। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বনির্ভরতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোক্তা- মানসিকতার বিকাশ ঘটানোর পাশাপাশি প্রথাগত শিক্ষার সঙ্গে বাস্তব ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার সংযোগ স্থাপনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

