আমাদের ভারত, ২৭ সেপ্টেম্বর: ফের এক হিন্দু ব্যক্তিকে খুন করা হলো বাংলাদেশে। গত বুধবার বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার বেগুনবাড়ি এলাকায় একটি জলাশয়ে বড় একটি ড্রাম ভাসতে দেখা যায়। ড্রামটি খুলতেই দেখা যায় ভিতরে মৃতদেহ ভরা ছিল। প্রাথমিকভাবেই ওই ব্যক্তির পরিচয় জানা না গেলেও পরে জানা যায় নিহত ব্যক্তির নাম নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর। তার বয়স ৫০ বছর। এই ঘটনায় প্রতিবাদে সরব হয়েছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “সব হিন্দুকে কি মেরে ফেলবে মুসলমানরা?”
জানাগেছে, নিহত ব্যক্তি একটি সোনার দোকান চালাতেন। যৌথ মালিকানায় ওই দোকান জ্বালাতেন তিনি। বাংলাদেশি ত্রিশাল উপজেলায় তাঁর বাড়ি। কী কারণে এই হিন্দু ব্যবসায়ী খুন হয়েছেন তা এখনো পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, খুনের পরেই বস্তা বন্দি করে মৃতদেহ ড্রামে ভরা হয়েছিল। তার পকেটের ভেতর থেকে ময়মনসিংহ হিন্দু কো- অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের একটি টোকেন পাওয়া যায়। সেই সূত্র ধরেই এলাকায় গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই মৃত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়। এরপর মৃত ব্যবসায়ী নিরঞ্জন সূত্রধরের স্ত্রী সুমিতা রানী সূত্রধরও, তার ছেলে জয় সূত্রধর তাঁর দেহে শনাক্ত করেন।
মৃত ব্যক্তির স্ত্রী জানিয়েছেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ওই ব্যক্তি নিখোঁজ ছিলেন। তাঁকে ২১ সেপ্টেম্বর দেখা গিয়েছিল স্টেডিয়াম এলাকায়। এর পরদিন ড্রামের ভেতর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। কে বা কারা খুন করল, কিভাবেই বা ড্রামের ভেতরে দেহ ঢুকিয়ে জলে ফেলা হলো তা পুরোটাই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশে আরও একবার সংখ্যালঘু হিন্দু খুন হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। ফেসবুকে পোস্ট করে তিনি লেখেন, যতদূর শুনেছি লোকটি ত্রিশালের বাসিন্দা এবং স্বর্ণ ব্যবসায়ী। আশ্চর্য! সব হিন্দুকে কি মেরে ফেলবে মুসলমানরা? সব হিন্দুর জমি দখল করে নেবে? আমি জানিনা কী করে হিন্দুরা বাস করছে ওই জেহাদিস্থানে। সুস্থ, সভ্য মানুষ ওই হিংস্র বর্বর অসভ্য মুসলমানের দেশে বাস করতে পারবে না। সম্ভবও নয়।”
এর আগে হাসিনা সরকারের পতন ও মহম্মদ ইউনুসের জমানায় বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা বড় প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। তখনও ভারত সরকারের তরফে বারবার হিন্দুদের সুরক্ষার কথা বলা হয়।

