আমাদের ভারত, বীরভূম, ২৯ আগস্ট: “সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে আসব। দেউচা- পাঁচামি নিয়ে কংক্রিট রোড ম্যাপ বানিয়ে আপনাদের জানাবো। তবে দেউচা- পাঁচামির আদিবাসীদের যে সমস্ত জমি তৃণমূল নেতাদের পাট্টা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো বাতিল করা হয়েছে। সেগুলো পাট্টা দেখিয়ে যারা চাকরি নিয়েছে সেই চাকরিও বাতিল করা হয়েছে।” শনিবার প্রশাসনিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তৃণমূল আমলে বিরোধীদের গুরুত্ব দেওয়া হতো না বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। সেই রাস্তায় না হেঁটে এদিন রামপুরহাট রক্তকরবী পুরমঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বোলপুর এবং বীরভূমের সাংসদ অসিত মাল এবং শতাব্দী রায়। এছাড়াও হাঁসনের তৃণমূল বিধায়ক (ঋতব্রত) ফায়েজুল হক, নলহাটির রাজেন্দ্র প্রসাদ সিং, মুরারইয়ের মোশারফ হোসেন, বোলপুরের চন্দ্রনাথ সিনহা এবং নানুরের বিধায়ক বিধান চন্দ্রও মাঝি।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “১০ অক্টোবরের মধ্যে পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং পি ডবলুডি’র সমস্ত রাস্তা সংস্কার করতে বলা হয়েছে। বিডিওদের আরও সক্রিয় হতে বলা হয়েছে। সিউড়ি মেডিক্যাল কলেজ, দেউচা- পাঁচামি এবং রেলের উন্নয়ন নিয়ে বেশ কিছু আলোচনা হয়েছে”। তবে এদিন মুখ্য সচিব জানিয়ে দেন, দেউচা, পাঁচামিতে এখনই কয়লা উঠবে না। এখন পাথর তোলার টেন্ডার দিতে হবে। পাথর মাফিয়া টুলু মণ্ডলের নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের পুলিশ এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২২০ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে। ২৫২টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে। রাজ্য পুলিশ অনেক রেভিনিউ বাড়িয়েছে। কিন্তু পুলিশকে আরও শক্তি বাড়াতে হবে।”
তারাপীঠের কৌশিকী অমাবস্যা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তারাপীঠে কৌশিকী অমাবস্যায় পাঁচ কিলোমিটার অন্তর ক্যাম্প থাকবে। ওআরএস দেওয়া হবে। বাউল গান হবে। অস্থায়ী চিকিৎসা ক্যাম্প থাকবে।”
এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে ওবিসি শংসাপত্র সরলীকরণ করার বিষয়ে আবেদন করেন সাংসদ অসিত মাল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পূর্বতন সরকার একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে সুবিধা করে দিতে ভুয়ো নাম তুলেছিল। আমরা সব ঝাড়াই বাছাই করে প্রকৃত প্রাপকদের শংসাপত্র দেব।” রামপুরহাট পুরসভাকে ৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। দ্রুত রাস্তা সংস্কার করার নির্দেশ দেন। জেলার সমস্ত ২৫ বেডের হাসপাতালকে ৫০ বেডের করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে।
বিরোধীদের আবেদনে মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকে নির্দেশ দেন, কাউকে যেন ভুয়ো মামলা না দেওয়া হয়। তবে যাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তাদের যেন ছাড়া না হয়। জাল দলিল নিয়ে জমি হাতানো মাফিয়াদের হুঁশিয়ারি দেন, জোর করে, কিংবা জাল দলিল করে জমি দখল করলে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নেবে। যদি কেউ এভাবে জমি দখল করে থাকেন তাহলে ছেড়ে দিন। আদিবাসীদের জমি কেউ দখল করে থাকলে তারাও ছেড়ে দিন।

