ফের পার্ক স্ট্রিট কাণ্ডের ছায়া খড়দা থানার সোদপুরে, এক সপ্তাহ ধরে মৃত স্বামীর দেহ আগলে রাখলেন স্ত্রী

আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ৫ জুলাই: ফের পার্ক স্ট্রিট কাণ্ডের ছায়া দেখা গেল সোদপুরে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মৃত স্বামীর দেহ আগলে রাখলেন স্ত্রী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল সোদপুর উত্তর পল্লী এলাকায়। ঘটনাস্থলে খড়দা থানা পুলিশ।

একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন বয়স ৮৫-র অমিও দাস। বর্তমানে অবসর নিয়ে স্ত্রী অঞ্জলি দাসের সাথে সোদপুর উত্তর পল্লীতে নিজেদের বাড়ির দোতলায় থাকতেন। নিচে বাস করতেন ভাড়াটে। বেশ কয়েকদিন ধরেই স্বামী-স্ত্রীকে এলাকার লোকজন দেখতে পাচ্ছিলেন না। এর পর সোমবার অমিও বাবুর বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। সেই দুর্গন্ধে এলাকার লোকজনের সন্দেহ হয়। তারা বার বার ডাকা ডাকি করতে থাকেন অমিও বাবু ও তার স্ত্রীকে। কিন্তু কোনও সাড়া পাওয়া যায় না। এমন কি তাদের ফোন করেও কোনও উত্তর পাওয়া যায় নি। অবশেষে হঠাৎ করেই অমিওবাবুর স্ত্রীর কান্নার শব্দ শুনতে পান ভাড়াটিয়া ও প্রতিবেশীরা। তখন তারা খড়দহ থানায় ফোন করে। সেই সঙ্গে অমিও বাবুর ছেলেদেরও খবর দেওয়া হয়। এই ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে দ্রুত এসে পৌঁছায় খড়দহ থানার পুলিশ। সেই সঙ্গে অমিও বাবুর ছেলেরাও এসে উপস্থিত হন।

খড়দা থানা পুলিশ এসে দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে দেখে মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে স্বামী অমিও দাসের মৃতদেহ। পুলিশের অনুমান গত সোমবারে মারা যান অমিও বাবু এবং টানা এক সপ্তাহ ধরে স্বামীর মৃতদেহ আগলে রেখে ঘরের মধ্যে ছিলেন স্ত্রী অঞ্জলি দাস। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এরপর খড়দা থানার পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

এই ঘটনায় প্রতক্ষ্যদর্শীদের বক্তব্য, “অমিও বাবুর স্ত্রী মানসিক ভাবে কিছুটা অসুস্থ। তিনি প্রয়াই পাড়া লোকেদের সাথে খারাপ ব্যবহার করতেন। বেশ কিছু দিন ধরে অমিও বাবু অসুস্থ্য ছিলেন। তবে অমিও বাবু কবে মারা গেছেন তা বলতে পারছি না। কিন্তু দুর্গন্ধ বের হতে দেখে আমাদের সন্দেহ হয় তখন আমরা ওনার ছেলেদের ও পুলিশকে খবর দিই।”

এদিন মৃত অমিওবাবুর ছেলে বলেন, “বাবা অসুস্থ ছিলেন তবে উনি কবে মারা গেছেন তা সঠিক বলতে পারবো না। আমার সাথে বেশ কয়েক মাস আগে কথা হেয়েছিল। তবে মা কেন মৃত দেহ নিয়ে এত দিন বসে রইল তা বলতে পারছি না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *