আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৯ সেপ্টেম্বর: দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামী- স্ত্রীর মধ্যে বচসা, হাতাহাতি। অবশেষে ধারালো অস্ত্র নিয়ে একে অন্যেকে আঘাত। ঘটনায় গুরুতর জখম হন স্বামী স্ত্রী দু’জনেই। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় স্ত্রীর, স্বামী চিকিৎসাধীন।
না কোনো চলচ্চিত্রের কাহিনী নয়, ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার বাঁকুড়া জেলার খাতড়া বাজারে খাতড়া হাই স্কুল সংলগ্ন এলাকায়। রক্তাক্ত অবস্থায় দু’জনকেই খাতড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দু’জনকেই বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হল স্ত্রী কবিতা সর্দারের (৩৩)। অন্যদিকে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তার স্বামী ধনঞ্জয় সর্দার (৩৫)। এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়।

স্থানীয়দের বক্তব্য, খাতড়া হাই- স্কুলের সামনে একটি ভাড়া বাড়িতে একা থাকত কবিতা। তার বাপের বাড়ি খাতড়ার গদারহার গ্রামে।কবিতার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, দীর্ঘ দিন ধরেই তাদের স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি চলছিল। সেই কারণে মেয়ে কবিতাকে বাড়ি ভাড়া নিয়ে আলাদা রেখেছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মঙ্গলবার সকালে আচমকাই ওই ভাড়া বাড়িতে হাজির হন কবিতার স্বামী ধনঞ্জয়। সেই সময় বাড়িতে একাই ছিলেন কবিতা। সেই সময় দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। তা ক্রমে হাতাহাতি ও পরে ধারালো অস্ত্র নিয়ে দু’জনেই একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ির ভিতরে কবিতাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।খাতড়া থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে কবিতার মাথা, হাত, সারা শরীর ও গলায় গভীর ক্ষত ছিল। অন্যদিকে, বাড়ির বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ধনঞ্জয়কে দেখতে পান স্থানীয়রা। তার পেট ও মাথায় আঘাত রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। দু’জনকেই রক্তাক্ত অবস্থায় খাতড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় কবিতার। গুরুতর জখম ধনঞ্জয়ের চিকিৎসা চলছে।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে খাতড়া হাসপাতালে পৌঁছোন কবিতার বাবা- মা। তাদের দাবি, প্রায় দশ বছর আগে ছাতনার লক্ষ্মণপুরের বাসিন্দা ধনঞ্জয়ের সঙ্গে কবিতার বিয়ে হয়েছিল। তাদের একটি মেয়েও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্যে অশান্তি চলছিল বলেও দাবি পরিবারের। সোমবার রাতেও কবিতার সঙ্গে ছিলেন তার বাবা- মা। মঙ্গলবার ভোরে তারা বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরেই ধনঞ্জয় ওই ভাড়া বাড়িতে এসে ঝামেলা শুরু করে বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে বাঁকুড়া হাসপাতালে ধনঞ্জয়ের বক্তব্য, কবিতার সঙ্গে একজনের অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। সেই নিয়ে ঝামেলা হতো। গত কয়েকদিন হলো তাকে নিয়ে এসে খাতড়ায় বাড়ি ভাড়া করে রেখেছিল শ্বশুরবাড়ির লোকজন, এবং তাকে কবিতার কাছে আসতে মানা করা হয়েছিল। তবে ঠিক কী কারণে বচসা থেকে পরিস্থিতি এতটা উত্তপ্ত হয়ে উঠল এবং ধারালো অস্ত্র কীভাবে ব্যবহৃত হলো, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে খাতড়া থানার পুলিশ। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুরো ঘটনার নেপথ্যে কী ছিল, স্বামী- স্ত্রী দু’জনের মধ্যে ঠিক কী ঘটেছিল এবং হামলার ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

