আমাদের ভারত, ১৮ মে: সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদে ঔরঙ্গজেবের সমাধিস্থল দর্শনে আসেন মিম নেতা আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তার এই সফর ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় বিতর্ক। কেনো ওয়েসির এই সফর, সেই প্রশ্ন তোলেন এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার। এর থেকে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এরপরই রাজ ঠাকরের দলের এক নেতা টুইটারে লেখেন, যদি ওই সমাধিস্থল ধ্বংস করে দেওয়া হয় তাহলে ঔরঙ্গজেবের উত্তরাধিকারীরা আর মাথা ঠুকতে আসবে না। এই হুমকির পরেই প্রশাসনের তরফে সমাধি স্থলের নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ওয়েইসি ঔরঙ্গজেবের সমাধিস্থল দর্শন করার সময়ে শরদ পাওয়ার প্রশ্ন তুলেছিলেন হঠাৎ কেন এখানে এলেন তিনি? এরপর এর ফলে কোনো বিতর্ক তৈরি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বর্ষিয়ান নেতা। আর তার সেই আশঙ্কা সত্যি করে শিবসেনা ও রাজ ঠাকরের দলের তরফে সমালোচনা শুরু হয়। মহারাষ্ট্র নব নির্মাণ সেনার নেতা গজানন কালে টুইটারে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, শিবাজীর ভূমিতে এক মুঘল শাসকের সমাধি কেন থাকবে? সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যদি ওই সমাধিস্থল ধ্বংস করে দেয়া হয় তাহলে ঔরঙ্গজেবের উত্তরাধিকারীরাও এখানে এসে মাথা ঠুকতে পারবেন না। নাম না করলেও তার খোঁচা থেকে পরিষ্কার তিনি কার কথা বলেছেন।
তবে এর পাশাপাশি তিনি দাবি করেছেন শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বাল ঠাকরেও চাইতেন এই সমাধিস্থল ধ্বংস করে দেওয়া হোক। সেই প্রসঙ্গ তুলে এমএনএস নেতা শিবসেনা নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা কি বালাসাহেবছর এইকথা মানবেন না? অবশ্য আপনারা ঔরঙ্গাবাদের নাম বদলানোর দাবি থেকেও উল্টো পথে হাঁটা শুরু করেছেন।”
এই টুইটের কেন্দ্রীয় সংস্থা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার দ্বারস্থ হন সমাধিস্থল নিকটস্থ থাকা কয়েকজন বাসিন্দা। তারা দাবি করেন সমাধিস্থলে তালা ঝুলিয়ে রাখা হোক। কিন্তু প্রশাসনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় লিখিত ভাবে তাদের কাছে আবেদন না করা হলে তারা কোনো পদক্ষেপ করবেন না। তবে সমাধিস্থলে চারজন অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের সাহায্যের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

