Sukanta, BJP, কলকাতা পুরসভায় কেন সনাতনী মেয়র চাইছেন? উত্তর দিলেন সুকান্ত

আমাদের ভারত, ৯ সেপ্টেম্বর: কলকাতা পুরোভোটের দায়িত্ব পেয়েই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ঘোষণা করেছিলেন এবার তিলোত্তমা সনাতনী মেয়র পেতে চলেছে। আর তাঁর এই দাবি ঘিরে নানান মন্তব্য উঠে এসেছে বিরোধীদের তরফে। সিপিএম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য প্রশ্ন তুলেছেন, সনাতনী মেয়র বলতে সুকান্ত বাবু কী বলতে চেয়েছেন? আজ সাংবাদিক বৈঠকে সেই প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব দিলেন সুকান্ত মজুমদার।

কলকাতা পুরসভায় সুকান্ত মজুমদার কেন সনাতনী মেয়র দেখতে চান? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কারণ কলকাতা পৌরসভার বেশিরভাগ মানুষ সনাতনী। আর সনাতনী মেয়র হলে সে সেই সব সনাতনী মানুষের সেন্টিমেন্ট বুঝতে পারবে, তাদের ভাবাবেগকে গুরুত্ব দিতে পারবে।

এরপরেই তিনি তৃণমূল কংগ্রেস তথা প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে কটাক্ষ করে বলেন, আমাদের মেয়র কোনদিন বলবে না আপনি হিন্দু ধর্মে জন্মগ্রহণ করেছেন বলে আপনি দুর্ভাগা। তিনি বলেন, কলকাতার মেয়রের কাছ থেকে আমরা এইরকম কোনো বিষয় শুনতে চাই না। কারণ তৃণমূল কংগ্রেসের মেয়রের কাছ থেকে আমরা এই সব শুনেছি। আমি দুর্ভাগা, কারণ আমার জন্ম হিন্দু ধর্মে হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী দুর্ভাগা, কারণ তার জন্ম হিন্দু ধর্মে হয়েছে। এটা ফিরহাদ হাকিম সাহেব বলেছেন। আমরা এইরকম মেয়র দেখতে চাই না। তাঁর দাবি, আমরা এমন একজন মেয়রকে দেখতে চাই যিনি সবার কথা বলবেন, সবার কথা ভাববেন, সবাইকে নিয়ে চলবেন। সবাইকে সাথে নিয়ে সবার বিকাশের কথা বলবেন। ভারতবর্ষের যে মূল চিন্তাধারাতা তার প্রতি তার অগাধ বিশ্বাস থাকবে।

কলকাতা পৌরসভার ভোট প্রস্তুতি নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক বৈঠক করেছেন সুকান্তবাবু। কলকাতা পুরসভা সম্পর্কে জানাতে গিয়ে ইন্দোর শহরের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন তিনি। সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, ইন্দোরের মডেলে কলকাতা কর্পোরেশন সাজানো হবে। ভারতের সবচেয়ে পরিষ্কার শহর ইন্দোর, কেন্দ্র সরকারের সার্ভে অনুযায়ী টানা আটবার দেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ইন্দোর। সুকান্ত মজুমদারের কথায়, আমরা ইশতেহার তৈরি করব। ইশতেহার কমিটিকে আমি অনুরোধ করেছি ইন্দোর মডেল অনুসরণ করতে। ইন্দোর কর্পোরেশন ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কর্পোরেশন। আমি সেই মডেলকে সামনে রেখে ইশতেহার তৈরি করব।

অন্যদিকে বাগেশ্বর বাবার বাঙালির আমিষ- নিযামিষ খাওয়ার মন্তব্য নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে রাজ্য জুড়ে। এই প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, এটা আসলে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরীর চেষ্টা চলছে‌। কোন সন্ন্যাসী, কোনো সাধু মহারাজ নানা কথা বলেন। বাঙালি সাধুরাও অনেক সময় বলেন যে, নিরামিষ খাও, বিশেষ করে যারা বৈষ্ণব। আমাদের বিরোধী পক্ষ এটাকে একটা ইস্যু তৈরি করার চেষ্টা করছে। বাগেশ্বর বাবা একজন কথাকার, যিনি ধর্মীয় পুস্তক থেকে কথা শোনান। এখানে তিনি অতিথি হয়ে এসে তাঁর বক্তব্য বলেছেন, আমরাও আদর আপ্যায়ন করেছি। উনি চলে গেছেন, মিটে গেছে। বাঙালি যেমন মাছ মাংস খেতো তেমন খাবে। আমরা আমাদের স্ট্যান্ড ক্লিয়ার করেছি। আমরা নিজেরা আমিষ খাই। আমাদের নেতারা যারা বাংলার নেতা তারা সবাই আমিষ খায়। আমাদের বাঙালি এমন অনেক গুরুদেব আছেন তারা বলেন বা নির্দেশ দেন নিরামিষ খাবার খেতে। যার যে রকম রুচিবোধ সে সেই রকম ভাবে খাবে। এতে কারোর কিছু বলার নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *