স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ৩ এপ্রিল: গরমকাল পড়ে গিয়েছে। চলছে সূর্যের প্রখর দাবদাহ। চলতি বছর গরম পড়ার আগে থেকেই দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রান্তে জল অপচয় নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। জল অপচয় হলে ভবিষ্যতে মানুষ থেকে প্রাণীকূল কিংবা প্রকৃতির নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। আমাদের দেশেরই উত্তরপ্রদেশের পিলভিউ রাজ্যে জল অপচয়কে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হল।

এ রাজ্যেও মালদা, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া বীরভূম সহ বেশ কয়েকটি জেলায় জল স্তর অনুযায়ী জলের আকাল অবশ্যম্ভাবী বলে দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে দেওয়াতে এ রাজ্য কিছুটা সম্মানজনক অবস্থায় আছে। ২০২০ সালে চালু হওয়া জলস্বপ্ন প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে ১.৭৭ কোটি পরিবারে জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য হওয়ায় ইতিমধ্যেই ৩৮ লক্ষ পরিবারে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে রাজ্য সরকার।
বেশ কয়েক বছর ধরে জলকর নেওয়া বন্ধ হয়েছে সরকারি সিদ্ধান্তে। লাগছে না এককালীন কোন অর্থও। তবে জলের যথেচ্ছ ব্যবহার রুখতে এই মুহূর্তে কোন পরিকাঠামো না থাকলেও পৌরসভা এবং ব্লক অফিসের তরফ থেকে নতুন জলের কানেকশনের সাথে লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে মিটার।
সূত্রের খবর অনুযায়ী জানা গেছে, আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ জল ব্যবহার বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে। পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী মাথাপিছু সত্তর লিটার জল প্রতিদিন হিসেবেই ওই জলের মিটার এই নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকবে। নাগরিকদের ক্ষেত্রে অনেক নিয়ম-নীতি থাকলেও, পৌর কর্তৃপক্ষ অথবা ব্লক কর্তৃপক্ষ কতটুকু সচেতন হবেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শহরের গ্রামাঞ্চলে বেশ কিছু এলাকায় দিনে তিন থেকে চার বার জল পরিষেবা চালু আছে। অথচ পাড়ায় পাড়ায় এই বিভিন্ন জলের কল গুলি থাকে খোলা। ফলে বিপুল পরিমাণে জল নষ্ট হয় সারাদিনে। নদিয়ার শান্তিপুর পৌরসভার অন্তর্গত প্রায় প্রত্যেক ওয়ার্ডেই বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ্যে রাস্তার উপর সারাদিন অঝোরে ঝরে চলেছে মূল্যবান জল, তাও আবার পানীয়। অর্থাৎ গঙ্গার জল পিউরিফাই করে খাওয়ার উপযোগী করে তুলতে খরচ হয়েছে যথেষ্ট।

এ বিষয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলরা বলেন, পৌরসভায় জানিয়েছি। পৌর কর্তৃপক্ষ জানান বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কলের মাথা গুলো রাতের অন্ধকারে কে বা কারা ভেঙ্গে দেয়। পৌরসভার পক্ষ থেকে তা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয় না তাই নিজেদের দেওয়া পৌরকরের টাকায় এই পরিষেবা সচল রাখতে পৌরসভার দিকে সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। সকলের সম্পত্তি মনে করে তা সবসময় রক্ষা করতে হবে।
অন্যদিকে এলাকাবাসীরা বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্লাস্টিকের মুখ লাগানোর ফলে প্রচন্ড রোদে তা নষ্ট হয়ে যায়, ঢালাই লোহার কল হলে তা টেকসই হয় অনেকদিন। নিয়মিত তত্ত্বাবধান প্রয়োজন যা একেবারেই হয় না। তবে পৌর প্রশাসক সুব্রত ঘোষ বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন আমাদের। তিনি বলেন, অবিলম্বে সমস্ত কাউন্সিলরদের একটি সভা করে এর প্রতিকার করা হবে।

স্থানীয় সামাজিক সংস্থা গুলোর দাবি, খোলা জলের কলগুলিতে প্লাস্টিকের কল লাগাতে গেলে, অজ্ঞাত কারণে প্রশাসনিক বাধা আসে। তারা জানান, সংখ্যাটা ৩০-৩৫ থেকে বেড়ে প্রায় ১০৬ টা হলেও আমরা লাগিয়েছিলাম কিন্তু পরবর্তীতে সেগুলি চুরি হয়ে গিয়েছিলো। তার ওপর একই কলে দুবার তিনবার কলের মুখ লাগিয়ে দেওয়া যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছিলো, যেটা চাঁদা তুলে সম্ভব হচ্ছিল না অন্যদিকে এই কাজের দায়িত্ব যাদের উপর বর্তায় তারা দায়িত্ব মুক্ত হয়ে যাচ্ছিলেন।
স্থানীয় সায়েন্স ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জল অপচয়ের বিষয়ে একাধিকবার ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রশাসনিক এবং শান্তিপুর পৌরসভায়। আরো দুটি বিষয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ তা হল ভূগর্ভস্থ জাতীয় সম্পত্তি জল নিয়ে রমরমা ব্যবসা চলছে, সেটাও প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আনা দরকার। অন্যদিকে মাটির গভীর দিয়ে যাওয়া জলের পাইপ লাইনে ফাটল অনেক সময় উপর দিয়ে বোঝা যায় না যাতে বিপুল পরিমাণে জল নষ্ট হয়। তবে বাড়িতে মিটার লাগানোর কথা শুনে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন নাগরিকরা। তাদের দাবি, এভাবে জল অপচয় হতে থাকলে তার মূল্য চোকাতে হবে নাগরিকদেরই। তবে লোহার ঢালাই কল লাগানো এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করলে অনেকটাই তা ফলপ্রসূ হবে।

