সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৩ এপ্রিল: পারিবারিক বিবাদের জেরে প্রায় ৭ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনির মাধ্যমে খুন করানো হয়েছে ঝালদার কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দুকে। সংবাদ মাধ্যমের কাছে পুলিশের তদন্তে আজ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য প্রকাশ করলেন পুলিশ সুপার এস সেলভামুরগণ। খুনের তিন সপ্তাহের শেষে পুলিশের এই সাফল্য বলে জানান তিনি।

আজ তাঁর দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী নিহত তপন কান্দুর দাদা নরেন কান্দু এই খুনের ঘটনায় যোগাযোগ করেছিলেন আসিদ খানের সঙ্গে। আসিদ খান যোগাযোগ করেন ভাড়াটে খুনি কলেবর সিংয়ের সঙ্গে। এরপরই কলেবর সিংয়ের এই ঘটনায় আরও কয়েকজন ভাড়াটে খুনির সাথে যোগাযোগ করে তপন কান্দুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গোটা ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন মোট চারজন। নিহত তপন কান্দুর ভাইপো দীপক কান্দু, নিহত তপন কান্দুর দাদা নরেন কান্দু, কলেবর সিং এবং আসিদ খান। ঘটনায় আরও চারজন যুক্ত রয়েছেন এবং তারা ঝাড়খন্ড এবং বিহারে লুকিয়ে রয়েছে বলে জানান জেলা পুলিশ সুপার। তাদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। আজ পুরুলিয়া মফস্বল থানার
‘ক্ষনিকা’ গেস্ট হাউসে সাংবাদিক বৈঠকে একথা জানালেন জেলা পুলিশ সুপার এস সেলভা মুরগান। সেখানে অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার পিনাকি দত্ত ছাড়াও সিটের সদস্যদেরও দেখা গিয়েছে।

এদিন অবশ্য খুনের কারণ হিসেবে পরিবারিক ঝামেলাকে বার বার খাড়া করেন পুলিশ সুপার। এই ঘটনা কোনও ভাবেই রাজনৈতিক নয় বলে দাবি করেন তিনি। যদিও ঝালদায় পুর নির্বাচনে নরেন কান্দু ও তপন কান্দুর মধ্যে ৫ লক্ষ টাকার বাজি হয় বলে জানান পুলিশ সুপার। ঝালদার ২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী নরেন কান্দুর ছেলে দীপক কান্দুর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কংগ্রেসের তপন কান্দু। সেখানে জয়ী হন তপন কান্দু। এই ফলাফলও আক্রোশের কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে পুলিশের দাবি।
কংগ্রেসের ঝালদা শহর কমিটির কার্যকরী সভাপতি বিপ্লব কয়াল পরিষ্কার জানিয়ে দেন, “পুলিশ নিজেকে বাঁচাতে পরিবারিক খুনের তত্ত্ব খাড়া করছে।”
নিহতের স্ত্রী পূর্ণিমা তপন কান্দু বলেন, “চার জন গ্রেফতার হলেও এর পিছনের বড় মাপের মাথা রয়েছে। আইসি নিয়ে কোনও তদন্তই হল না। তাই, নিরপেক্ষ তদন্ত আমরা চাই। সেটা সিবিআই ছাড়া আমাদের ভরসা নেই।”

