স্বয়ংসেবক পরিচয় দিয়ে যারা সংঘের প্রচারক সম্পর্কে কটূ কথা বলে সুশীল সমাজের কাছে হেয় করছে, এরা কারা?

এডভোকেট সমীর পাল

আমাদের ভারত, ৯ জুন: একি শুনছি চারদিকে! অদ্ভুত অদ্ভুত কিছু লোক নিজেদের স্বয়ংসেবক পরিচয় দিয়ে সংঘের নামে যা খুশি বলছে! অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করে সংঘকে সুশীল সমাজের কাছে হেয় করছে।

সংঘের তথাকথিত কিছু প্রবক্তা আমাকে এখন স্বয়ংসেবক হিসাবে মর্যাদা না দিলেও আমরা কিন্ত বাঁচি মরি সংঘের জন্যই। আমরা ছোট বেলায় প্রচারকের ভালবাসা আজও সঙ্গে নিয়ে চলি। এক খন্ড জমি কিনলেও মনে হয় চল্লিশ বছর আগের শিশু স্বয়ংসেবক অবস্থার সময়ে যে প্রচারক’কে পাশে পেয়ে বড় হয়েছি তাকে একবার জানিয়ে আসি। তিনি কিন্ত অবাক হয়ে চল্লিশ পঞ্চাশ বছর বছর বয়স্ক স্বয়ংসেবকটির পিঠে হাত দিয়ে বলতেন তুই এত বড় হয়ে গেলি যে সংসার করে বাড়ির জমি কিনে ফেললি? বলতেন আরো বড় হবি। মা কেমন আছেন বল? প্রচারকের ভালবাসার কথা আবার মনে পড়তেই পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতাম, বলতেন তোরা বড় হবি তবে তো সংঘ বড় হবে। মা বাবার প্রতি কোনও অবহেলা করিস না। এই যে বড় হয়েছিস সব কিন্ত মা বাবার জন্যই। মনে রাখিস কিন্ত। এই ছিলেন প্রচারক।

আজ যখন কিছু অর্বাচিন গামছা পরে প্রচারকদের অমর্যাদা করতে নেমেছেন তখন কিন্ত আমরা সুখে থাকতে পারছি না। আমরা অভিভাবক-বন্ধু প্রচারক দেখে বড় হয়েছি। ছোটবেলায় শাখার মাঠে যাবার আগেই খবর পেয়েছি যে প্রচারকের গায়ে কিছু সিপিএমের লোক হাত তুলেছে, এটা শোনা মাত্রই আমাদের চোখ লাল হয়ে যেত, বলতাম সাহস থাকলে আমাদের গায়ে হাত তোল। প্রচারকের গায়ে হাত পড়লে হাত কেটে রাখব। এই ছিল প্রচারকের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আবেগ ভালোবাসা।

হবে না কেন? মা বলতেন বাবু তুমি একটু পরে খাও ওঁনাকে তোমার বাবার সাথে দাদার সাথে খেতে দিই, কারন ওই দাদার তো নাওয়া খাওয়ার ঠিক নেই, উনিতো সব ছেড়ে তোমাদের জন্য এসেছেন। শ্রদ্ধার জায়গাতো তৈরি হবারই কথা। আর আজ সেটা ভেঙে টুকরো টুকরো করে অসম্মান করার নোংরা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এটা একটা সম্প্রদায়ের চক্রান্তের আর একটি অধ্যায়।

ইংরেজ আমলে হিন্দু ধর্মকে ছোট করার জন্য ধর্মের শ্রদ্ধার জায়গাগুলোকে হেয় করা হতো। বাম আমলেও হিন্দুদের ধর্মীয় পরিমণ্ডল থেকে বের করার। চক্রান্ত শুরু হয়। পুরোহিত, ব্রাহ্মণদের হেয় করা চক্রান্ত চলে। এজন্য বিশেষ করে ব্রাহ্মণ সন্তানদের অস্ত্র করা হয়েছিল, যারা হিন্দু ধর্মকে অশ্রদ্ধা করতে শিখেছিল এবং হিন্দু ধর্মের পরিপন্থী অখাদ্য খেয়ে সকলের সামনে বুক ফুলিয়ে তা বলত। এখনও সেই ধারা অব্যাহত। বছরদেড়েক আগেও ধর্মতলায় তাদের সেই বীরত্বের কাজ সবার সামনে দেখিয়েছিল। ব্রাহ্মণরাই যে ধর্মের মূল জায়গাটা ধরে রেখেছিলেন সেটাই বামপন্থীরা ভাঙতে চেয়েছিল। ব্রাহ্মণদের সম্পর্কে এখনও কটু কথা বলে তাদের সুবিধাভোগী বলে হেয় করা হয়, অথচ এই ধর্মকে ধরে রাখার জন্য তাদের প্রচেষ্টাকে দেখা হয় না। কারণ বাম শিক্ষায় শিক্ষিত এইসব মানুষ ধর্মটাকেই অস্বীকার করে। তাদেরই চক্রান্তে আজ দুর্গাপূজা, কালীপূজা হয় না, পরিবর্তে হয় শারদ উৎসব দীপাবলি উৎসব হয় অর্থাৎ পুজো শব্দটাকেই বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ পুজো মানেই একটা সাম্প্রদায়িক গন্ধ, তাই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মন থেকে সুকৌশলে পুজো শব্দটিকে বের করে সেখানে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে উৎসব। আর বলা হচ্ছে ধর্ম যার নিজের উৎসব হচ্ছে সকলের। এই চক্রান্ত সমানে চলছে। আজ সংঘের বিরুদ্ধেও ঠিক এইভাবে চক্রান্ত শুরু হয়েছে।

কারন একটি বিশেষ মতবাদ এবং একটি সম্প্রদায় বুঝে গেছে হিন্দুদের মধ্যে ত্যাগ করে ঘর বাড়ি ছেড়ে যারা বেরিয়েছে তাদেরকেই হেনস্থা করো যাতে আগামীতে বাংলায় আর কেউ সংসার ত্যাগ করে না বেরোয়। তাই আজ রগরগে ভাষায় আক্রমণ, আর একটা ষড়যন্ত্র, এটাকে রুখতেই হবে। প্রয়োজনে মোকাবিলার পথেই হাঁটতে হবে। যারা স্বয়ংসেবক আছেন, যেমন অবস্থায় থাকুন এই ধরনের নোংরা প্রচার রুখতে সচেষ্ট হোন, না হলে আগামী দিন খুব বিপদের। আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য খুব খারাপ। চলুন সচেষ্ট হই। কারন আমাদেরও কিছু কর্তব্য আছে।

1 thoughts on “স্বয়ংসেবক পরিচয় দিয়ে যারা সংঘের প্রচারক সম্পর্কে কটূ কথা বলে সুশীল সমাজের কাছে হেয় করছে, এরা কারা?

  1. Supriya ray says:

    Satti shuru haya darkar mittye kathar pratibad .tar sathe boudhik. 6oto o baro galppo. Ar kothay Sanger seva mulok kaj chal66e ta tule dhara. Sanger keu bipade parle tar sahajjo kara.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *