পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৭ আগস্ট: খড়্গপুর শহরে পরপর ঘটে যাওয়া ছিনতাইয়ের ঘটনায় বড়সড় সাফল্য পেল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। ছিনতাইয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি গ্যাংকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ছিনতাই করা ছয়টি সোনার হার। ধৃতদের মধ্যে একজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং বাকি দু’জন নাবালক বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
বুধবার মেদিনীপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে গোটা ঘটনার কথা জানান পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা। তিনি জানান, খড়্গপুর শহরে গত কয়েক মাস ধরে পরপর ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছিল। তদন্তে নেমে পুলিশ একটি গ্যাংয়ের সন্ধান পায় এবং সেই গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গত মে মাসে খড়্গপুর শহরে দু’টি, জুলাই মাসে দু’টি এবং আগস্ট মাসে আরও দু’টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ তিন মাসে মোট ছয়টি ছিনতাইয়ের ঘটনা সামনে আসে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই ঘটনাগুলি ঘটেছিল। সেরশা স্টেডিয়াম, অতুলমণি স্কুল, সংঘশ্রী ক্লাব, নিউ ট্রাফিক এবং সাঁইবাবা মন্দির সংলগ্ন এলাকাতেও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এই ঘটনাগুলির তদন্তে নেমে পুলিশ সুরজ কাহার নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে। তার সঙ্গে আরও দু’জন নাবালককে আটক করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে মোট চারটি সোনার হার উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তের সূত্র ধরে একটি সোনার দোকান থেকেও আরও দু’টি সোনার হার উদ্ধার করেছে পুলিশ। সব মিলিয়ে মোট ছয়টি সোনার হার উদ্ধার হয়েছে বলে সাংবাদিক সম্মেলনে জানান পুলিশ সুপার।
ছিনতাই করা সোনার হারগুলি কীভাবে সোনার দোকানে পৌঁছেছিল, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনায় সোনার দোকানের মালিকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ছিনতাইয়ের সামগ্রী কেনাবেচার সঙ্গে আর কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কোনও অপরাধী মানুষের ক্ষতি করে বাঁচতে পারবে না। শুধু তাই নয়, অপরাধীদের যারা সাহায্য করবে, তাদেরও আমরা বাঁচতে দেব না।”
পরপর ছিনতাইয়ের ঘটনায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল খড়্গপুর শহরে। পুলিশের এই সাফল্যে স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তি ফিরেছে শহরবাসীর মধ্যে। উদ্ধার হওয়া গয়নাগুলি সংশ্লিষ্ট ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলির সঙ্গে কীভাবে যুক্ত, ধৃতদের সঙ্গে আরও কোনও অপরাধী চক্রের যোগাযোগ রয়েছে কি না এবং এই গ্যাংয়ের আরও সদস্য জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ।

