অর্ধাহার ও অনাহারে থাকা জ্বরে আক্রান্ত কোলের শিশুকে নিয়ে ভবঘুরে মা, দুশ্চিন্তায় ফুলবাড়ির বাসিন্দারা জানালেন প্রশাসনিক সাহায্যের আর্জি

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২২ সেপ্টেম্বর: জ্বরে আক্রান্ত অর্ধাহার ও অনাহারে থাকা কোলের শিশুকে নিয়ে বেকায়দায় মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে মা। চরম অবহেলায় পড়ে থাকা শিশুটির দুশ্চিন্তায় ঘুম উড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। চাইলেও স্থানীয়রা শিশুটির জন্য কিছুই করতে পারছেন না ভবঘুরে মায়ের তাড়নায়। প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের আর্জি অসহায় বাসিন্দাদের। অবাক করা ঘটনাটি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর থানার ফুলবাড়ি এলাকার। ৫১২ নং জাতীয় সড়কের ধারে একটি শনিমন্দিরের বারান্দায় গত কয়েকদিন ধরে এমন অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে এক হতভাগা শিশুর। সরকারি সাহায্যের করুন আর্জি ফুলবাড়ির বাসিন্দাদের।

স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার সকাল থেকে ওই অজ্ঞাত পরিচয় ভবঘুরে মা তার অসুস্থ ছোট্ট ফুটফুটে একটি শিশুকে নিয়ে ফুলবাড়ি বাসস্ট্যান্ডে দোকানে দোকানে খাবারের জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। রাতে অসুস্থ শিশুকে নিয়েই ফুলবাড়ি এলাকায় ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে এক শনি মন্দিরের বারান্দায় আশ্রয় নেয় ওই ভবঘুরে মহিলা। সারারাত রাস্তার ধারে মন্দিরের খোলা বারান্দায় রাত কাটায় সে। সকাল হতেই জ্বরে আক্রান্ত শিশুকে শুরু হয় দফায় দফায় স্নান করানোর পালা। আর এতেই হতচকিত হয়ে সেখানে ভিড় জমান এলাকাবাসীরা। অর্ধাহার ও অনাহারে থাকা শিশুকে দেখে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী স্থানীয়রা খাবার তুলে দিলেও মানসিক ভারসাম্যহীন মা ও শিশুকে নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তা যেন কোনওভাবেই পিছু ছাড়ছে না। তাদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই শিশু যদি এমন বিনা চিকিৎসায় থাকে তাহলে তার প্রাণ সংশয় রয়েছে। তাদের আরও আশঙ্কা জাতীয় সড়কের পাশে মা ভারসাম্যহীন শিশুকে নিয়ে চলাফেরা করতে যে কোনও সময় দুর্ঘটনার মুখেও পড়তে হতে পারে তাদের।

চন্দন মহন্ত, মৃদুলা বসাক ও চান্তেষ বর্মনরা জানিয়েছেন, ভবঘুরে মা কোনও কিছু বলছে না। শুধু একবার ডাঙারহাট বাড়ি বলেছিল। শিশুটি জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চরম অবহেলার মধ্যে রয়েছে। সরকার থেকে যদি চিকিৎসা করানোর ব্যবস্থা করা হয় তাহলে ছোট্ট ফুটফুটে শিশুটি প্রাণে রক্ষা পাবে। তাদের কোনও কথা শুনছে না ওই ভবঘুরে আর তাতেই তারা দুশ্চিন্তায় শিউরে উঠছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *