প্রতীতি ঘোষ, উত্তর ২৪ পরগণা, ৪ জুন: ফের রাতভর দুষ্কৃতী তাণ্ডব ও গুলি চালনার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল ভাটপাড়া পৌর এলাকা। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন বিজেপির স্থানীয় নেতা লালবাবু প্রসাদ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ভাটপাড়া পৌরসভার ১৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিজেপির অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়নের সহ সভাপতি লালবাবু প্রসাদের বাড়িতে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা৷ অভিযোগ, একটি গাড়ি ও কয়েকটি বাইকে চেপে দুষ্কৃতীরা এসে হানা দেয় ও রাতভর তাণ্ডব চালায়৷ বাড়ির জানালা লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে দুষ্কৃতীরা। সেই গুলি বাড়ির ভেতরে টিভি, দেওয়াল ও অন্যান্য আসবাব পত্রে গিয়ে লাগে।
এই গুলি চালানোয় লালবাবু প্রসাদ ও তার বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা কোনও মতে প্রাণে বেঁচে যান। কিন্তু এই ঘটনায় সারা রাত আতঙ্কের মধ্যে কাটে ওই বিজেপি নেতা ও তার পরিবারের সদস্যদের। ভোর হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। এই গুলি চালনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় জগদ্দল থানার পুলিশ।
ভোট পরবর্তী হিংসা অব্যাহত রয়েছে ভাটপাড়া ও জগদ্দল বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায়। রোজই ওই সমস্ত এলাকায় বোমাবাজি ও দুষ্কৃতী তাণ্ডবের ঘটনা ঘটেই চলেছে। বৃহস্পতিবার রাতে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই গুলি চালনার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার ভাটপাড়া পৌরসভা ১৫ ওয়ার্ডে দুষ্কৃতী তাণ্ডবের জেরে আতঙ্কিত লালবাবু প্রসাদ ও তার পরিবারের সাথে দেখা করতে যান ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং। সেই সময় ওই ওয়ার্ডের স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং।

স্থানীয় তৃণমূল নেতারা অর্জুন সিংয়ের সামনে দাঁড়িয়ে বারবার অভিযোগ করেন যে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফলে বাইরে থেকে দুষ্কৃতী এসে এই গণ্ডগোল বাধাচ্ছে। অপর দিকে সাংসদ বলেন, “কেউ নিজের বাড়িতে কখনো গুলি চালায় না, এটা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব না। বাংলায় অরাজকতা এসেছে, সব সময় অশান্তি লেগে থাকছে,
এই অশান্তি চলতে থাকলে মানুষ নয়, এমন কি জন প্রতিনিধিরাও এই বাংলা ছেড়ে চলে যাবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তো দুটো মুখ, একটা দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলেন আর আরেকটা দিয়ে বদলা নেওয়ার কথা বলেন। তাই বাংলাতে এত হিংসা হচ্ছে। যে ভাবে পশ্চিমবঙ্গে অশান্তি হচ্ছে, লুটপাট চলছে তাতে বাংলাতে দ্রুত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়া দরকার।” এই সম্পূর্ণ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন৷

