অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ১৭ মে:
দক্ষিণ কলকাতায় জোকার গুরুসদয় সংগ্রহশালার তালাবন্ধ ঘরে নষ্ট হচ্ছে হাজারখানেক ঐতিহ্যের দুর্গা। অন্তত ৫০টি অতি প্রাচীন দুর্গা মূর্তি তালাবন্ধ হয়ে আছে। বুধবার আন্তর্জাতিক সংগ্রহশালা দিবসেও সেগুলো থাকবে বন্দিদশায়।
গুরুসদয় সংগ্রহশালার বিভিন্ন পটচিত্রে মনসামঙ্গল, কৃষ্ণলীলা, চন্ডীমঙ্গলে ঘরবন্দি হাজারখানেক দুর্গা। এগুলোর প্রত্নতাত্বিক মূল্য অপরিসীম। সংগ্রহশালার সঙ্কট নিয়ে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন স্তরে বহুবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। সংগ্রহশালা বাঁচাতে
হেলদোল নেই কোনও সরকারের।
গুরুসদয় সংগ্রহশালা হল লোকশিল্প জাদুঘর। এই জাদুঘরের সংগ্রহে তিন হাজারেরও বেশি প্রত্নসামগ্রী, দেবদেবীর মূর্তি, পুঁথি, মুখোশ, বাদ্যযন্ত্র, চিত্র, বস্ত্র ও কাষ্ঠশিল্প রয়েছে। প্রবাদপ্রতীম আইসিএস তথা ব্রতচারী আন্দোলনের প্রবক্তা গুরুসদয় দত্তের সারা জীবনের সংগ্রহের ভিত্তিতে এই জাদুঘরটি গড়ে উঠেছে। গুরুসদয় দত্তের পুত্র বীরেন্দ্রসদয় দত্তের সুপারিশে জাদুঘরটি স্থাপিত হয়। তাঁর পুত্রবধূ আরতি দত্ত এটি পরিচালনা করতেন। তিনি দীর্ঘ সময় এই জাদুঘরের অধ্যক্ষা ছিলেন।
শহরতলীর গুরুসদয় সংগ্রহশালার গুরুসদয় দত্ত সংগৃহীত মোট লোক শিল্পের সংখ্যা ২,৫২৯। এর মধ্যে জড়ানো পট ২৬৪, চৌকো পট ৩৭০, কালীঘাট পট ৭৩, চালচিত্র ৬টি, স্কেচ বই ২ টি, সরা ৪০টি, পাথরের মূর্তি ৪১টি। কাঠের কাজ ১৯৮টি। অবিভক্ত বাংলার নানা স্থান থেকে গুরুসদয় দত্তর সংগৃহীত দুর্গা ও অন্যান্য পুরাকীর্তি আছে এই সংগ্রহশালায়।
প্রতিষ্ঠানের আধিকারিক অনির্বাণ ব্যানার্জি এই প্রতিবেদককে জানান, “এর মধ্যে আছে বেশ কিছু জড়ানো পটচিত্র। যেমন চন্ডী মঙ্গল ১৬ টি, দুর্গা পটচিত্র ৯টি, চৌকো পট পর্যায়ে আছে শিব পার্বতী ২টি, কালীঘাট পটের মধে আছে শিব পার্বতী ১টি, স্কেচ বইয়ের দুর্গা ২ টি, চালচিত্র ১টি।”

