আমাদের ভারত, ১ এপ্রিল: দূষণ কমাতে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি গঙ্গার দু’পাশে গাছ লাগানোর উপর জোর দিতে চায় ‘অতুল্য গঙ্গা মিশন’। বিভিন্নভাবে তারা এ ব্যাপারে সচেতন করার চেষ্টা করছে।
মিশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য গোপাল শর্মা বলেন, গঙ্গা আমাদের সম্পদ। অথচ সেই নদী আজ ধীরে ধীরে মরতে বসেছে আমাদের দোষে৷ সেই গঙ্গাকে আমাদের রক্ষা করতে হবে তবেই আমরা আমাদের বাঁচাতে পারব। সভ্যতাকে রক্ষা করতে পারব।

অতুল্য গঙ্গা প্রকল্পে গঙ্গার ২২৫ টি জায়গায় গঙ্গা দূষণ মানচিত্র করেছে। প্লাস্টিকের ব্যাবহার কমাতে আঠাশ দিনের অতুল্য গঙ্গা সাইক্লোথন অনুষ্ঠিত হল গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গা সাগর পর্যন্ত। গঙ্গোত্রী থেকে গত ১ মার্চ শুরু করে ১৪ জন সাইকেল আরোহী ২৫০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ২৮ মার্চ গঙ্গাসাগরে এসে পৌঁছায়। পদযাত্রা চলাকালীন বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথাও বলছেন তাঁরা। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ করেন। গঙ্গাদূষণ রোধের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার বার্তাও দেন এই মিশনের সদস্যরা।
এর পর কলকাতার এনসিসি ট্রেনিং ইন্সটিটিউটে সাইকেল আরোহীদের সম্বর্ধনা দেওয়া হয় এনসিসি’র পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম ডিরেক্টরেটের পক্ষ থেকে।
সাইক্লোথনে অংশ নেন প্রাক্তন কর্নেল মাইক কেশর। তিনি বলেন, ‘অতুল্য গঙ্গা মিশন’-এর মাধ্যমে আমরা সারা বিশ্ব জুড়ে নদী বাঁচাতে নেতৃত্ব দিতে পারব। নদীকে বাঁচিয়ে পরবর্তী প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখাই আমাদের লক্ষ্য। তাই নদী দূষণ কমাতে সবাইকে উদ্যোগ নিতে হবে। অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনান্ট জেনারেল অলক ক্লেয়ার বলেন, মা গঙ্গাকে রক্ষা করতে হবে আমাদের সকলকে। ‘অতুল্য গঙ্গা মিশন’-এর লক্ষ্য হল দূষণ রোধ করে গঙ্গাকে রক্ষা করা। সেই উদ্দেশ্যে জনসচেতনতার বার্তা নিয়ে পথে নেমেছেন গত ১৬ ডিসেম্বর উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগ রাজ থেকে শুরু হয় এক পদযাত্রা। দলে ছিলেন প্রাক্তন সেনাকর্মী, সাংবাদিক, কৃষক সহ বিবিধ পেশার মানুষ। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে তাঁরা ফরাক্কা ও ধূলিয়ান হয়ে যান গঙ্গাসাগর। তাঁরা গোমুখেও যেতে চান বলে জানান দলের এক সদস্য। মোট ৬ হাজার কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে পথে নামেন তাঁরা। ওটিই বিশ্বের দীর্ঘতম পদযাত্রা বলে দাবি দলের সদস্যদের।

