সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১ এপ্রিল: বড়জোড়া শিল্পাঞ্চলের ঘুটগড়িয়ায় একটি ক্ষুদ্র ইস্পাত কারখানায় ফার্নেস ফেটে দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী দলের চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বড়জোড়া শিল্পাঞ্চলের ঘুটগড়িয়ার কসমিক ফেরো অ্যালয় নামে একটি ক্ষুদ্র ইস্পাত কারখানায় লোহা গলানোর ফার্নেস ফেটে ৪ জন কর্মরত শ্রমিক আগুনে ঝলসে গিয়ে গুরুতর জখম হয়, সঙ্গে সঙ্গে তাদের বড়জোড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের দুর্গাপুরের দুটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

এই ঘটনার পর শ্রমিকরা যেমন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তেমনি কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সুরক্ষার ব্যাপারে উদাসীনতার অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দল বিজেপি। দলের শিল্পাঞ্চলের নেতা তথা যুব মোর্চার বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক সোমনাথ কর বলেন, গোটা রাজ্যের মানুষ অসুরক্ষিত। রামপুরহাটের ঘটনাকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ পুড়ে মরছেন, কারখানায় আগুনে ঝলসে গিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন শ্রমিকরা, কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা বা দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে না। তিনি ঘুটগড়িয়ার ওই কারখানা কর্তৃপক্ষের দিকে আঙুল তুলে বলেন, সুরক্ষা নিয়ে গোটা শিল্পাঞ্চলে একই অবস্থা। এই বেহাল অবস্থার জন্য শাসক দলকে দায়ী করে তিনি বলেন, শাসক দলের নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করে শ্রমিক শোষণ চলছে। বড়জোড়ার তৃণমূল নেতারা কারখানাগুলি থেকে তোলা তুলে বাড়ি গাড়ি করে নিয়ে স্ফূর্তিতে মজে আছেন।
এবিষয়ে বড়জোড়ার বিধায়ক তথা তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অলক মুখার্জি বলেন, বিজেপির ওই নেতা দুধের শিশু। রাজনীতির কিছু বোঝেন বলে মনে হয় না। তাই ওর কথার উত্তর দেওয়া ঠিক মনে করি না। অলকবাবু বলেন, আমি শ্রমিকদের সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব। যদি দেখি কোনো গাফিলতি রয়েছে তবে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় বড়জোড়ার দীপক মণ্ডল, বর্ধমানের অয়ন মণ্ডল, কুলটির জয়দেব ওঁরাও ও বর্ধমানের মাধবডিহি গ্রামের মৃন্ময় দে কর্মরত অবস্থায় জখম হন। বছর ১৮-র মৃন্ময় দে’কে স্থানীয় হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকি ৩ জনকে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
কারখানার এক আধিকারিক জানান, সুরক্ষার ব্যপারে আমরা অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করি। তবে কি কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

