আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ১৪ জানুয়ারি: মকর সংক্রান্তির পূন্য লগ্নে আজ ভোর থেকে পটাশপুরের কেলেঘাই নদীতে পুণ্যস্নানে মাতলেন দুই মেদিনীপুরের অসংখ্য মানুষ। স্নান সেরে পুজো দিলেন তুলসীচারার মন্দিরে।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুরে কেলেঘাই নদীতে পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে আজ ভোর থেকে পুণ্যস্নান সারলেন দুই মেদিনীপুরের অসংখ্য পুণ্যার্থী। নদীতে স্নান করার পর তারা পুজো দেন নদীর পার্শ্ববর্তী তুলসী চারার মন্দিরে। এই উপলক্ষ্যে এই মন্দিরের এলাকায় মেলা হয় প্রত্যেক বছর। কিন্তু করোনার কারণে এ বছর মেলা হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অষ্টাদশ শতকের বাকসিদ্ধ বৈষ্ণব সাধক শ্যামানন্দী বৈষ্ণব চূড়ামণি শ্রী গোকুলানন্দ বাবাজী পটাশপুর, সবং ও আশপাশের বিশাল এলাকায় বৈষ্ণবাচার্যরূপে বন্দিত ছিলেন। কথিত আছে, পৌষ সংক্রান্তির মধ্যরাতে কেলেঘাই নদীর মাঝে নিজের যোগ মঞ্চে তিনি স্বজ্ঞানে দেহত্যাগ করেন। দেহত্যাগ করার আগে গোকুলানন্দজী তাঁর প্রিয় শিষ্য এলাকার গ্রামের জমিদার পরমানন্দ ভুঁইঞার ছেলে বিপ্রপ্রসাদ ভুঁইঞা তাঁর যোগ মঞ্চেই সমাহিত করার আদেশ দিয়ে যান। তিনি বলেছিলেন, পৌষ সংক্রান্তির মধ্য রাত্রির পর যে ভক্ত নদীতে স্নান সেরে তাঁর যোগমঞ্চের তুলসী গাছের গোড়ায় নদীর তিনমুঠো মাটি দেবে তার মনস্কামনা পূর্ণ হবে। সেই মনোস্কামনা পূর্ণ করতে পুরুষ মহিলা সকলেই পৌষ সংক্রান্তির ভোর থেকে কেলেঘাই নদীতে স্নান করে তুলসী মন্দিরে মাটি দেন তাদের মনস্কামনা পূরণের জন্য।

তবে করোনার কারণে গত বছরের তুলনায় এ বছর ভক্তদের ভিড় সেই ভাবে নেই। রীতি মেনেই চলছে পুজো কিন্তু বন্ধ রয়েছে মেলা।

