সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৫ নভেম্বর: পুরুলিয়ায় সর্বাধিক কৃষিজীবী মানুষকে সংগঠনে যুক্ত করার লক্ষ্যে ‘কৃষি সভ্যতার বিজয় দিবস উদযাপন’ করল তৃণমূল। আজ পুরুলিয়ার রবীন্দ্র ভবনে আনুষ্ঠানিক ভাবে এর সূচনা করলেন পশ্চিমবঙ্গ কিষাণ ক্ষেত মজদুর তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি পূর্ণেন্দু বসু। সংগঠনের পুরুলিয়া জেলা শাখার উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানটি হয়।

সংগঠনের রাজ্য সভাপতি পূর্ণেন্দু বসু কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, কৃষকদের কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছে বিজেপি সরকার। সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
তিনি কৃষক আন্দোলন নিয়ে এক হাত নেন সিপিএমকে। আজকের একটি পত্রিকায় সম্পাদকীয় প্রতিবেদনে তৃণমূল সম্পর্কে যে লেখা হয়েছে, তার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যে দিন উত্তরপ্রদেশের লখীনপুরে আন্দোলনকারী কৃষকদের উপর গাড়ি চালিয়ে ৪ জন কৃষককে হত্যা করা হয়েছিল তারপর কোন দলের নেতা বা নেত্রী ওই গ্রামে গিয়েছিলেন, এই নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন? একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসেরই ৪ জন সাংসদ সকাল ৭টার মধ্যে শহিদদের বাড়িতে গিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, কৃষক আন্দোলনের নেতারা আমাকে ফোন করেছিলেন। তারা বলেছিলেম যে তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে বসতে চান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যখন আমি বিষয়টি জানাই তখন তিনি বলেন, তাদের নিয়ে এসো। আমি তাদের নিয়ে যাই এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে ১ ঘন্টা আলোচনা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের বলেন, আমি এই আন্দোলনে আছি, তিনি বলেন এই কৃষক আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই আমি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছি আমি কৃষকদের কোনও দিন ভুলতে পারবো না। এই আন্দোলনের কোনও রেকগনাইজড ছিল না। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে কয়েকজন বামপন্থী নেতা ছিলেন। এরা পণ্ডিত এই পণ্ডিতরা মনে করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অচ্ছুত। তাই তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আন্দোলনে যেতে বাধা দিয়েছিল। স্বাধীনতার পর এই প্রথম রাজ্য বিধানসভায় সিপিএম ও কংগ্রেসের কোনও প্রতিনিধি নেই, কারণ কি? কারণ এই দল গুলি বছর বছর ধরে এই পশ্চিমবঙ্গে কৃষক বিরোধীতা করে গেছে।
পশ্চিমবঙ্গ কিষান ক্ষেত মজদুর তৃণমূল কংগ্রেসের কৃষি সভ্যতার বিজয় দিবস ও সংবর্ধনা সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন কৃষি মন্ত্রী ও বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ কিষান ক্ষেত মজদুর তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি পুর্ণেন্দু বসু, জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ মাহাতো, জেলা তৃণমূলের প্রাক্তন এবং বর্তমান সভাপতি, পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী সন্ধ্যারানী টুডু, জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় ব্যানার্জি সহ জেলা নেতৃত্ব।

