প্রতীতি ঘোষ, উত্তর ২৪ পরগনা, ১৯ এপ্রিল: তৃণমূলের দুঃখের দিন এসে গেছে, তাই ওরা আমাকে কালো পতাকা দেখাচ্ছে। এ থেকে পরিষ্কার বাদুড়িয়ায় বিজেপি জিতছে। আজ বাদুড়িয়ায় এক জনসভায় একথা বললেন বিজেপি নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।
বসিরহাট মহাকুমার বাদুড়িয়া বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী সুকল্যাণ বৈদ্যর সমর্থনে সোমবার দুপুরবেলা বদুড়িয়া রথতলা মাঠে প্রকাশ্য জনসভা করলেন বিজেপি নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেত্রী পাপিয়া অধিকারী, ছিলেন জেলার সাংগঠনিক সভাপতি তারকনাথ ঘোষ। এই সভায় আসার পথে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা কালো পতাকা দেখায় বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, “আমি আর পাপিয়াদি যখন আসলাম, তখন কিছু লোকজন কালো পতাকা দেখাচ্ছিলো, আমি জানি কালো পতাকাটা কি, কালো পতাক হলো দুঃখের প্রতীক, তৃণমূলের দুঃখের দিন এসে গেছে, আজকে ওদের দেখে মনে হচ্ছে বাদুড়িয়া বিধানসভায় বিজেপি জিতবে। বাদুড়িয়ার তৃণমূল নেতা আশিক বিল্লাহ দাবি করেন এরকম কোনও ঘটনা ঘটেনি, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বাদুড়িয়া বিধানসভা তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি, বিজেপি হাজার চেষ্টা করলেও এখান থেকে জিততে পারবেন না। উনি এসব কথা বলে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছেন।
আগামী ২২ শে এপ্রিল বৃহস্পতিবার ষষ্ঠ দফার নির্বাচনের আজ প্রচারের শেষ দিন, তাই এই প্রচারে বিজেপি জায়গা ছাড়তে চাইছে না। এদিন জনসভায় রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাদুড়িয়ার যিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন ইনি আগে কংগ্রেসের হয়ে বহুবার বিধায়ক ছিলেন। তিনি এখানে কোনও কাজ করেননি। নেই একটা কলেজ, নেই ভালো রাস্তা নেই আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জল। তার থেকে বড় বিষয় হল এখানকার মানুষের অসুবিধা দূর করতে জন্য ইছামতি নদীর উপর একটি ব্রিজ তৈরি করেছ। কিন্তু গত ১০ বছর ধরে সেই ব্রিজটি এখনো পর্যন্ত চালু করতে পারলেন না। তিনি এখন আবার তৃণমূলের নাম লিখিয়ে এখানকার মানুষের নাকি উন্নতি করবেন? আপনারা আমাকে বিশ্বাস করে আমাদের প্রার্থী সুকল্যাণ বৈদ্যকে ভোট দিয়ে তাঁকে জয়ী করুন, আমি কথা দিচ্ছি এইসব সমস্যা থাকবে না।”
তিনি আরো বলেন, এই বিধানসভাটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা, কিন্তু সংখ্যালঘু ভাইরা আমাদের সঙ্গে আছে, তারা এই সরকারের কাছ থেকে কি পেয়েছে? শুধু এদেরকে ভোটে ব্যবহার করা হয়েছে, এদের কোনো রকম কোনো উন্নতি হয়নি। কারো কোনও চাকরি দিতে পারেনি, মা বোনেদের সুরক্ষা দিতে পারেনি। এই সরকারকে আপনারা যেতে দিন, একে আটকে রাখার কোনও দরকার নেই। আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসলে আমরা রূপশ্রী, কন্যাশ্রী, সবুজ সাথী, স্বাস্থ্য সাথী, বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা এই সরকারে থেকেও অনেক বেশি আমরা দিতে পারব, এই সরকার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমফানের টাকাপয়সা লুট করেছে, এই সরকারকে আর প্রয়োজন নেই মানুষের।

