জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ১৭ এপ্রিল: পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম নেওয়া একেবারেই না পসন্দ তৃণমূলের মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুজয় হাজরার। প্রতিদিন বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তার বাড়িতে দেখা করতে আসা ব্যক্তিদের প্রণাম ঠেকাতে তিনি শেষ পর্যন্ত বাড়ির সামনে বিজ্ঞপ্তি ঝুলিয়ে দিলেন। সেই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট লেখা রয়েছে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম না জানানোর অনুরোধ।
গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাকে সাংগঠনিক ভাবে ভেঙ্গে ঘাটাল ও মেদিনীপুর করা হয়। মেদিনীপুরের দায়িত্ব পান সুজয় বাবু। মার্জিত রুচির এই জেলা সভাপতির পাশাপাশি ব্রাহ্মণ শ্রেণির হওয়ায় ছোট-বড় প্রায় সকল সাক্ষাৎ প্রার্থীই তাকে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে বসেন। এতে তার বিশেষ আপত্তি রয়েছে বলে সুজয় বাবু জানান। তিনি বলেন, বাঙালি সংস্কৃতিতে আদিকাল থেকেই প্রণাম ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের রীতি রয়েছে ঠিকই কিন্তু তা বলে একেবারে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম নেওয়াটা নিজের কাছে অস্বস্তিকর বলে মনে হয়।
তৃণমূল জেলা সভাপতি বলেন, এখন আমি একজন নেতা হিসেবে পরিচিত হয়েছি মানেই সকলের গুরুজন হয়ে গেছি এরকম ভাবার কোনো অবকাশ বা ধৃষ্টতা না থাকাই ভালো। বাড়ির এবং প্রতিবেশী গুরুজনদের প্রণাম জানানো উচিত। তাই, সাক্ষাৎ প্রার্থীদের এ বিষয়ে অবগত করাতেই বাড়ির সামনে এই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া। সুজয়বাবু বলেন, তিনি প্রতিদিন মেদিনীপুর শহরের নান্নুর চকের দলীয় কার্যালয়ে বসেন। সেখানেও দলের কর্মীরা এবং অনেক রকম সমস্যা জানাতে আসা বহু মানুষ প্রণাম করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তখন খুবই অস্বস্তি ও বিরক্ত বোধ করি। তাই, সাক্ষাৎপ্রার্থীদের এ বিষয়ে অবগত করাতে কয়েকজন কর্মীকে বলে দেওয়া হয়েছে। আর যেহেতু বাড়িতে কর্মীদের সব সময় পাওয়া যায় না, তাই সেখানে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম না করার অনুরোধ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি ঝোলানো হয়েছে।
এর পরেও যারা পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করবেন তাদের কাজ করবেন না বলেও জানিয়েছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি।

