পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৪ ফেব্রুয়ারি: বালুরঘাট পুরসভায় তৃণমূলের ঘোষিত তালিকায় বিদায়ী কাউন্সিলারদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ স্পষ্ট। টিকিট পেলেন না কোনো প্রাক্তন কাউন্সিলারই। তালিকায় উঠে এল নতুন সহ পুরানো বেশ কিছু দলীয় নেতৃত্বের মুখ। শুক্রবার কলকাতায় তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চ্যার্টাজির সাংবাদিক বৈঠকের পরেই রাজ্যের ১০৮ টি পুরসভার তালিকা প্রকাশ্যে আনে রাজ্য তৃণমূল। যেখানে সামনে আসে বালুরঘাট পুরসভার ২৫ টি ওয়ার্ডের প্রার্থী তালিকা। যে তালিকাতেই জায়গা পাননি কোনো প্রাক্তন কাউন্সিলারই। ছেঁটে ফেলা হয়েছে বিদায়ী চেয়ারম্যান থেকে ভাইস চেয়ারম্যান সকলকেই। পুরসভায় ৫ বছর ক্ষমতায় থাকা সকল কর্মাধ্যক্ষরাও। যাকে ঘিরে রিতিমতো চর্চা শুরু হয়েছে বালুরঘাট শহরে। তবে এই বিষয়টিকে একদম গুরুত্ব দিতে নারাজ বালুরঘাট শহর তৃণমূল নেতৃত্ব।
বালুরঘাট শহর তৃণমূল সভাপতি বিমান দাস জানান, পুরনো মুখদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ সামনে আসায় তাদেরকে এবারে প্রার্থী পদে আনা হয়নি। উল্টে দলের বেশকিছু পুরানো নেতৃত্ব ও নতুনের সংমিশ্রনে তৈরী হয়েছে এবারে নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা। বেশ কিছু যুব নেতৃত্বকে এবারে স্থান দেওয়া হয়েছে তাদের প্রার্থী তালিকায়। যার মাধ্যমে আগামীতে তারা পুরবোর্ড দখল করতে সচেষ্ট হবে।
বালুরঘাট পুরসভার প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই এই পুরসভা বামেদের দখলে থাকলেও ২০১৩ সালে প্রথম সবুজ ঝড়ে বামদুর্গে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। যেখানে ১৪ টি ওয়ার্ডে জয়লাভ করে তৃণমূল এককভাবে বোর্ড গঠন করে। বিরোধীর আসনে বসে বামেরা। প্রথমে পৌরসভার চেয়ারপার্সন চয়নিকা লাহাকে করা হলেও মাত্র দু’বছরের মধ্যে তার মৃত্যুর পরে দায়িত্বে আসেন রাজেন শীল। যিনি আগে ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁকে পৌরাধ্যক্ষ করার পরে ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান বেবি বর্মন। যার পরেই সামনে আসে পুরসভার লাগামহীন দুর্নীতির চিত্র। এরপর বিগত কয়েক বছরে এই দুর্নীতির অভিযোগে এখনও এক তৃণমূল কাউন্সিলার পলাতক। ৫ বছরের মেয়ার শেষের পরেই ব্রতময় সরকার নামে অপর এক কাউন্সিলার দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন। ফলে তৃণমূলে থাকা বাকি ১১ জনের কাউকেই এবারে টিকিট দেয়নি তৃণমূল ভবন। যাকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। তবে কি দুর্নীতির দায়ে এরা সকলেই অভিযোগ ছিল বলেই কি এদের এবারে টিকিট জুটল না। উঠেছে বালুরঘাট শহর জুড়ে এই প্রশ্নও। যদিও সেসব প্রশ্নকে আমল দিতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের দাবি, পুরানো ও নব্য তৃণমূলের সংমিশ্রনেই ২৫ টি ওয়ার্ডেই নতুন মুখ আনা হয়েছে।

