আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ৭ জুলাই: ভোটের দুদিন আগে আদিবাসী পল্লিতে টাকা এবং শাড়ি বিতরণের অভিযোগ উঠল তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে। টাকা এবং শাড়ি বিলি করে নির্বাচনী বিধি ভেঙেছেন তৃণমূল প্রার্থী। অবিলম্বে তার প্রার্থী পদ বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন বিরোধীরা।
জানা গিয়েছে, বীরভূমের মুরারই ১ নম্বর ব্লকের মহুরাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪ নম্বর সংসদে তৃণমূল প্রার্থী হয়েছেন হুমায়ূন কবির। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই সংসদের বেলগড়িয়া আদিবাসী পল্লিতে যান হুমায়ূন। সেখানে চেয়ারে বসে আদিবাসীদের সঙ্গে প্রথমে কথা বলেন। এরপর চেয়ার থেকে উঠে পাঁচশো টাকার নোট গুনে দেন। বলেন রাতের খরচের জন্য। এরপর নির্দেশ দেন দুপুর ১২-১ টার পর ভোট দিতে যাবে। ওই গ্রামেই মহিলাদের শাড়ি এবং পুরুষদের ধুতি বিতরণ করা হয় বলে অভিযোগ। এই ভিডিও ভাইরাল হতেই নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগে তোলপাড় হয় মুরারই।
জানা গিয়েছে, হুমায়ূনের স্ত্রী বদরুন্নেসা খাতুন পঞ্চায়েতের বিদায়ী প্রধান। তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ ওঠায় দল তাদের নিজের এলাকায় মনোনয়ন দেয়নি। ফলে অন্য সংসদে দাঁড়িয়েছেন হুমায়ূন। ওই সংসদ আদিবাসী অধ্যুষিত। ফলে আদিবাসীরাই ভাগ্য নির্ধারণ করে। এদিকে সিপিএমের পক্ষ থেকে রামপুরহাট মহকুমা শাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বিজেপির জেলা সহ সভাপতি স্বরূপ রতন সিনহা বলেন, “তৃণমূল স্বচ্ছভাবে ভোট করাতে পারবে না। মানুষ নিজের ভোট দিতে পারলে তৃণমূল বাংলা ছাড়া হবে। তাই এখন টাকা, শাড়ি দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে”।
সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য সঞ্জীব বর্মণ বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। কমিশনের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তৃণমূল গরু, কয়লা বালি, পাথরের তোলাবাজির টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে”।
টাকা বিলির কথা অস্বীকার করেছেন হুমায়ূন। তিনি বলেন, “কোনো খেলাধুলোর জন্য হয়তো খরচ দিচ্ছিলাম। কেউ কেউ পুরনো ছবি ছেড়ে আমার বদনাম করার চেষ্টা করছে”।
রামপুরহাটের মহকুমা শাসক সাদ্দাম নাভাস বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শুরু হয়েছে’।

