Toll, Bankura, সরকার বদল হতেই বাঁকুড়ায় টোল আদায়ের ঝাঁপ বন্ধ, স্বস্তিতে জেলাবাসী

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৬ মে: রাজ্যে পালা বদল হতেই বাঁকুড়া শহরে একের পর এক টোল বন্ধ। টোলগুলি বন্ধ হতেই সেগুলি নিয়ে নানা অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে গাড়িচালকেরা৷ স্থানীয়দের বক্তব্য, শহরের টোলগুলি অবৈধ ছিল। তা না হলে সরকার বদলের পরই সেগুলি বন্ধ করে দেওয়া হলো কেন? স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিজেপি বিধায়ক, নেতা, কর্মী ও সমর্থকরাও সরব হয়ে উঠেছেন। বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়কের অভিযোগ, অবৈধ ভাবে পুরসভা এই টোল গেট তৈরি করে তৃণমূল নেতাদের পকেট ভরিয়েছে। বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রি শেখর দানার অভিযোগ, এই টোলগুলি অবৈধ ভাবে নির্মাণ করে ডাকাতি করেছে তৃণমূল নেতারা। এই টোল গুলি নিয়ে তদন্ত হবে। এভাবে দুর্নীতি করে থাকলে কেউ ছাড় পাবেন না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক।

অন্যদিকে তৃণমূল পরিচালিত বাঁকুড়া পুরসভা এই অভিযোগ মানতে রাজি নয়। পুরপ্রধানের বক্তব্য , টোলের সব টাকা পুরসভার ফান্ডে জমা হয়েছে। কোনও বেনিয়ম হয়নি।

এ প্রেক্ষিতে উল্লেখ্য, বাঁকুড়া শহরের একাধিক রাস্তায় টোল গেট চালু করা হয়েছিল। শহরের রাস্তায় পণ্যবাহী সহ বিভিন্ন গাড়ির চালকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হতো। বাঁকুড়ার সতীঘাট, লালবাজার, রাজগ্রাম ও কাটজুড়ি ডাঙায় টোল বসানো হয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীদের দাদাগিরি ছিল এই টোলগুলি ঘিরে। তাই রাজ্যে পালাবদলের পরেই টোলের ঝাঁপ বন্ধ হয়ে গেছে। এই টোলগুলি অবৈধ ছিল বলে দাবি করে লরি চালকেরাও সরব হয়েছেন। তাদের বক্তব্য, জোর করে যা খুশি টাকা নেওয়া হতো। এমনকি দাবি মতো টাকা না দিলে গাড়ি আটকে রেখে দেওয়া হতো এবং অপমান করা হতো।

রাজ্যে সরকার বদলের পর যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ও বেআইনি কর আদায় রুখতে কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে। মুখ্যসচিবের পক্ষ থেকে নির্দেশিকা জারি করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অবিলম্বে অবৈধ টোল বা ড্রপ গেট বন্ধ করতে হবে। জেলাগুলিতে যে সমস্ত টোল গেট বা ড্রপ গেট সরকারের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া চলছে সেগুলি অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রতিটি জেলাশাসকে নিজের এলাকায় এই ধরণের অবৈধ কেন্দ্রগুলি চিহ্নিত করে তা সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশের খবর ছড়িয়ে পড়তেই টোলগুলির ঝাঁপ একের পর এক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতেই টোলগুলি অবৈধ ছিল বলে মনে করছেন শহরবাসী। মুখ্যসচিবের নির্দেশ মেনে জেলার বৈধ এবং অবৈধ আদায় কেন্দ্রের তালিকা তৈরি কাজ শুরু হয়েছে। জেলাবাসীর ধারণা এবার টোল নিয়ে তোলাবাজি বন্ধ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *