আমাদের ভারত, ১৬ মে: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পুলিশ প্রশাসনের গাফিলতিতে জায়গাগুলো শুধরে ফেলতে শুরু করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। দায়িত্ব নিয়েই পুলিশের আধুনিকীকরণ ও সংস্কারে একাধিক বড়সড় পদক্ষেপ করেছেন। সেই ভাবনাকেই এগিয়ে নিয়ে গিয়ে শনিবার ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের প্রশাসনের পর্যালোচনা বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক থেকে নিচু তলার পুলিশ কর্মীদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত কড়া ও স্পষ্ট বার্তাও দিয়েছেন তিনি। প্রশাসনিক কর্তাদের মুখোমুখি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতার তাবেদারি করা বন্ধ করে আইন অনুযায়ী পুলিশকে নিজের কাজ করতে হবে।
শনিবারের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়ার মতো বড়সড় সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আগামী দিনে পুলিশকে ঠিক কী কী মেনে কাজ করতে হবে তার একটা স্পষ্ট নীল রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছেন তিনি।
পূর্বে তৃণমূল সরকার এবং ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের বিরুদ্ধে তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ অধিকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিগত বছর গুলিতে ডায়মন্ড হারবার এলাকায় প্রচুর অন্যায় ও বেআইনি কাজ হয়েছে। আর রাজনৈতিক চাপে পড়ে আপনাদেরই সেই সব কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে।এখানকার সাংসদ নিজে ফোন করে পুলিশকে দিয়ে দলদাসের মতো কাজ করাতো। তার সব প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে। কিন্তু সেই দিন এবার শেষ। এখন থেকে আপনাদের আমি ফ্রি হ্যান্ড বা পূর্ণ স্বাধীনতা দিলাম। কোনো তাঁবেদারি না করে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করুন।
এই বৈঠক থেকে পুলিশ প্রশাসনের কাজের গতি বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে মুখ্যমন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছেন। মহিলাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে রাজ্যের প্রতিটি থানায় বাধ্যতামূলকভাবে মহিলাদের ডেস্ক চালু করতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যাতে ঘরে বসে দ্রুত আইনি সাহায্য পায়, তার জন্যই অফিস ব্যবস্থা চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে অনলাইনে সমস্ত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।
তাঁর কথায়, যখন তখন, যেখানে সেখানে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শনের বরদাস্ত করা হবে না। এবার থেকে যে কোনো ধরনের প্রতিবাদ বা অবস্থান করতে গেলে পুলিশের কাছ থেকে নিয়ম মেনে আগাম লিখিত অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। অশান্তি পাকাতে গিয়ে যারা সরকারি সম্পত্তি ভাঙ্গচুর করবে তাদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে অভিযুক্তদের বাড়ির আসবাবপত্র থেকে শুরু করে সমস্ত জিনিসপত্র পুলিশ বের করে নিয়ে আসবে। সেগুলি বিক্রি করে সরকারি সম্পত্তি মেরামতির খরচও শুরু করবে সরকার।
অন্যদিকে পুলিশের গাড়িগুলির ফিটনেস নিয়েও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বহু পুলিশের গাড়ির দূষণের সমস্যা পত্র নেই। চালকের লাইসেন্স নেই। সাধারণ মানুষকে আইন শেখানোর আগে পুলিশকে নিজেদের শোধরানো দরকার। নিজেরা ঠিক হলে তবেই সমাজ ঠিক হবে।
যে সমস্ত বহুতল বা বাড়িতে অগ্নিকান্ডের আশঙ্কা রয়েছে পুরসভাকে দিয়ে সেগুলি দ্রুত পরীক্ষা করাতে হবে। শহরের বেআইনি নির্মাণ রুখতে যৌথভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
১০০ দিনের কাজ সহ বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্প থেকে যারা বেআইনিভাবে বা অনলাইন জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা তুলেছে দ্রুত তাদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
এই সবকিছুর পাশাপাশি রাজ্যের বেলডাঙা, আসানসোল সহ বেশ কিছু স্পর্শকাতর এলাকায় পুলিশ প্রশাসনকে অত্যন্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কর্তব্য পালনে কোনরকম গাফিলতি দেখা গেলে বরদাস্ত করা হবে বলে কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

