আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ৫ জুন: অমানবিক রেলের টিকিট কাউন্টারের কর্মীরা। বৈধ টিকিট না দিয়ে এক প্রতিবন্ধী যাত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে রেলের বিরুদ্ধে। একই অভিযোগ এক ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীরও। পরে সংবাদ মাধ্যমের হস্তক্ষেপ অসহায় মানুষদের মিলেছে টিকিট। দিনের পর দিন এই হেনস্থার বিহিত চাইছেন অসহায় মানুষগুলি।
রামপুরহাট স্টেশনে কনসেশনের টিকিট কাটতে গিয়ে টিকিট কাউন্টারের কর্মীদের কাছ থেকে মুখ ঝামটা খেতে হচ্ছে কনসেশনে ভ্রমণ করা অসহায় মানুষদের। এই তালিকা দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের হস্তক্ষেপে অসহায় যাত্রীদের টিকিট মিললেও অনেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন। এমনই অভিজ্ঞতার শিকার হলেন জন্মান্ধ মাশরেকুল শেখ নামে মুর্শিদাবাদের খড়গ্রাম থানার কান্দুরি গ্রামের এক বাসিন্দা। মাশরেকুল ২৯ জুন মুম্বাই যাওয়ার জন্য রামপুরহাট স্টেশনে টিকিট কাটতে আসেন। কর্মভূমি এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য তিনি টিকিট কাউন্টারে দাঁড়ান। কিন্তু কর্তব্যরত কর্মী তাঁকে পরিস্কার জানিয়ে দেন কনসেশন দেওয়া যাবে না। পুরো ভাড়া দিয়ে টিকিট কেটে ভ্রমণ করতে হবে। বাধ্য হয়ে তিনি ষ্টেশন মাষ্টারের দ্বারস্থ হন। সেখানেও তাঁর সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তিনি সংবাদমাধ্যমের দ্বারস্থ হন। তারপরেই সকাল গড়িয়ে দুপুর ১২ টার পর তাঁর ট্রেনে ভ্রমণের কনসেশন টিকিট মেলে।
মাশরেকুল বলেন, “আমি জন্মান্ধ। মুম্বাইয়ে একটি শৌচালয়ের দেখাশোনা করি। চলতি বছরের ৮ মে ঈদ উৎসবে বাড়ি ফিরেছিলাম। ২৯ জুন ফের মুম্বাই যাওয়ার জন্য সকালে টিকিট কাটতে রামপুরহাট ষ্টেশনের সংরক্ষণ কাউন্টারে দাঁড়িয়েছিলাম। টিকিট কাউন্টারের কর্তব্যরত কর্মী আমাকে বলেন, ‘মোদী’ কনসেশন তুলে দিয়েছে। যেতে হলে পুরো ভাড়া দিয়ে যেতে হবে। অনেক কাকুতি মিনতি করেও মেলেনি টিকিট। এরপর আমি ষ্টেশন ম্যানেজারের কাছে যাই। তিনিও কোনও সমাধানের পথ দেখাতে পারেননি। এরপর সংবাদমাধ্যমের সাহায্যে এবং মুম্বাই থেকে ফেরার টিকিট দেখিয়ে মুম্বাই যাওয়ার টিকিট মেলে”। তাঁর দাবি, রেল কর্মীদের এই অমানবিকতার বিহিত হওয়া প্রয়োজন। তা না হলে এরা এভাবেই মানুষকে দিনের পর দিন বঞ্চিত করে যাবে।
একই অভিজ্ঞতার শিকার রামপুরহাটের বাসিন্দা ক্যান্সার আক্রান্ত কালি চক্রবর্তীর। চলতি বছরের ১৭ মার্চ তাঁর চিকিৎসার জন্য ভেলোর যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁকে টিকিট দেওয়া হচ্ছিল না। শেষে ডিআরএমের দফতরের হস্তক্ষেপে টিকিট মেলে। কালি বলেন, “রামপুরহাট ষ্টেশনেই বেশি সমস্যা হয়। ভেলোর থেকে টিকিট পেতে কোনও সমস্যা হয় না”।
ষ্টেশনের বুকিং সুপারভাইজার বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন, “তিনি যে ট্রেনে যাওয়ার জন্য টিকিট কাটতে চাইছিলেন সেই কর্মভূমি ট্রেনে কনসেশন ছিল না। তবে তাঁকে অন্য ট্রেনের টিকিট বানিয়ে দেওয়া হয়েছে”।

