শব্দ নিয়ে ভাবনা ৪! ঈদ না ইদ

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ৩ মে: আজ পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানানোর দিন। ভারত-বাংলাদেশের বাংলাভাষীদের একটা বড় অংশের মানুষের মনে এর বানান নিয়ে ধন্দ রয়েছে। সংসদ বাংলা অভিধানে ঈদ্-উল্-ফিৎর, ঈদ্-উল্-জোহা এভাবে লেখা আছে। এই অভিধানে ‘ইদ’কে লেখা হয়েছে ঈদের প্রকারভেদ।

কাজী নজরুল ইসলাম ‘কৃষকের ঈদ’ কবিতায় লিখেছেন—
“জীবনে যাদের হররোজ রোজা ক্ষুধায় আসে না নিদ
মুমূর্ষু সেই কৃষকের ঘরে এসেছে কি আজ ঈদ?
একটি বিন্দু দুধ নাহি পেয়ে যে খোকা মরিল তার
উঠেছে ঈদের চাঁদ হয়ে কি সে শিশু-পাঁজরের হাড়?“ অন্যত্রও লিখেছেন ‘ঈদ’।

দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডঃ সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত জানতে চেয়েছিলাম। তাঁর কথায়, “ইদ নয়, Eid অর্থাৎ ঈদ“। আনন্দবাজার পত্রিকার প্রাক্তন উপ বার্তা সম্পাদক শম্ভু সেনের মতে, “এটুকু জানি বাঙালি মুসলমানরা বাংলায় লেখেন ঈদ। এটা তো বাংলা শব্দ নয়। আরবি শব্দ। আরবিতে নিশ্চয় ঈদ লেখে। অন্তত ঈদের ইংরিজি বানান দেখে তাই মনে হয় – Eid।“

ফেসবুকে ‘শুদ্ধ বানান চর্চা’ গ্রুপের সদস্য মহম্মদ আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আমার জানামতে বাংলা একাডেমী সর্বশেষ ২০১৬ সালে প্রমিত বানান রীতি সংশোধন (হালনাগাদ) করে। তার ভিত্তিতে বাংলা অভিধানও রচিত হয়। বহুল প্রচলিত ‘ঈদ’ শব্দটিকে ‘ইদ’ রূপে লেখার পরামর্শ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে তাদের যুক্তি হলো, ইদ বিদেশী শব্দ, আর কোনও বিদেশী শব্দের বানানে দীর্ঘ-ই ব্যবহৃত হবে না। অন্য একটি যুক্তি হলো- ঈদ শব্দটি উচ্চারণে দীর্ঘ স্বর উচ্চারিত হয় না। প্রকৃতপক্ষে ঈদ শব্দটি উচ্চারণে দীর্ঘ স্বরই উচ্চারিত হয়। আর তারা যে সুত্রের কথা বলেন, তা তাদের নিজেদের তৈরি। এটা কোনও অপরিবর্তনীয় ধর্মীয় বাণী নয়। তাদের এ বানান রীতি বাংলাভাষী মুসলিম জনগোষ্ঠী সহজভাবে গ্রহন করেনি। অনেকে নিমরাজি বা বাধ্য হয়ে ইদ বানান লিখছে। আবার অনেকে ঈদ বানানই লিখছে (যা একাডমীর মতে ভুল)।

ইদুলফিতর না কি ইদুল ফিতর— এই প্রশ্নের উত্তরে মহম্মদ আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুযায়ী
ইদুলফিতর বা ইদুল-ফিতর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *