আমাদের ভারত, আলিপুরদুয়ার, ২১ মে: করোনার হাত থেকে সাধারন মানুষকে রক্ষা করতে এবার পাড়ায় পাড়ায় স্যানিটাইজেশনে এগিয়ে এলেন একদল প্রমীলা বাহিনী। সকাল থেকেই বাড়ির কাজ ফেলে সাদা এপ্রন,মাথায় টুপি, মুখে মাস্ক, হাতে গ্লাভস লাগিয়ে কাঁধে স্যানিটাইজার মেশিন নিয়ে বেরিয়ে পড়ছেন পাড়ার পরিচিত মহিলারা। আলিপুরদুয়ারের বীরপাড়া শহরের রবীন্দ্রনগর এলাকায় এমন দৃশ্য দেখে অনেকেই চমকে যান। যদিও মহিলাদের এই উদ্যোগকে এককথায় সকলেই সম্মান ও সাধুবাদ জানিয়েছেন।
জানা গেছে, যে মহিলারা নিজের এলাকাকে জীবানু মুক্ত রাখার লড়াইয়ে সামিল হয়েছেন তারা সকলেই সরকার স্বীকৃত একটি মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য। চলতি আর্থিক বছরের শুরুতে সংগঠনটি সরকারি অনুদান হিসেবে কিছু আর্থিক সাহায্য পেয়েছিল। তবে ইতিমধ্যে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ায় ব্যাঙ্কে থাকা সেই অর্থ খরচ করা সম্ভব হয়নি। এবার সরকারি তরফে প্রাপ্ত সেই অর্থেই সমাজের বিপদের সময় সাধারন মানুষের পাশে দাঁড়াল স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রমিলা বাহিনীরা।

তাদের কথায় সীমিত ক্ষমতায় যতটা সম্ভব স্যানিটাইজেশন করা হবে বীরপাড়া শহরে। একইসাথে প্রতিটি সচেতন মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রমীলা বাহিনীর সদস্যরা। আপাতত গোটা বীরপাড়া শহর না হলেও নিজেদের রবীন্দ্রনগর এলাকার মহল্লাটিকে জীবাণু মুক্ত রাখতে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। স্যানিটাইজার পাম্প ও তরল জীবানুনাশক নিয়ে এলাকার প্রতিটি নর্দমা থেকে শুরু করে, বাড়িতে ঢোকার গেট এমনকি ময়লা ফেলার জায়গাগুলিকে স্যানিটাইজ করা হয়েছে। পথে মাস্কবিহীন কাউকে দেখা মাত্রই পরিয়ে দেওয়া মাস্ক। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বানের সঙ্গে সঙ্গে নতুন ১৫ দিন লকডাউনের বাকি দিনগুলিতে একান্ত কাজ ছাড়া বাড়ির বাইরে না বেরনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জয়ব্রত ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন,“সভ্যতার এই চরম বিপদের সময় এলাকার মহিলারা যেভাবে পথে নেমেছেন তা সত্যিই অভিনন্দনযোগ্য।” রবীন্দ্রনগর মহিলা স্বনির্ভর সংঘের অন্যতম সদস্য চম্পা চক্রবর্তী জানিয়েছেন,“মানুষের বিপদের চরম এই মুহূর্তে নিজের সংসার নিয়ে ঘরে বসে থাকলে, আক্রান্ত হবো না এমনটা হলফ করে কেউ বলতে পারবে না।তাই আমরা মিলিতভাবে পথে নেমেছি।” মহিলাদের ওই উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছেন জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মিনা।বলেন,“বিপদের সময় ওনারা যেভাবে প্রশাসনকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তা অবশ্যই তারিফযোগ্য কাজ।ওই উদাহরণকে সামনে রেখে সবাই যদি এগিয়ে আসেন তবে আমরা এই অতিমারীর সঙ্গে যুদ্ধে অবশ্যই জয়ী হতে পারবো।ওনাদের প্রতি অনেক শুভেচ্ছা রইলো।”

