‘জল নাই, জল চাই, বাংলার মেয়ে জবাব দাও’, দুর্গাপুরে বালতি বাজিয়ে অবরোধ, প্রতিবাদ বিজেপি প্রার্থীর

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৪ এপ্রিল: ‘জল নাই জল চাই, বাংলার মেয়ে জবাব দাও’। এই শ্লোগানকে সামনে রেখে প্রতিবাদে উত্তাল হল শিল্পশহর দুর্গাপুর। তিনমাস ধরে চরম জলকষ্টে নাকাল এলাকাবাসী প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ করল। বালতি, হাঁড়ি বাজিয়ে ক্ষোভ উগরে দিল। রবিবার এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল দুর্গাপুর পুরসভার ২৩ নং ওয়ার্ডের পশ্চিমপল্লী এলাকায়। বালতি বাজিয়ে এলাকাবাসীর প্রতিবাদে সামিল হলেন দুর্গাপুর পুর্বের বিজেপি প্রার্থী দীপ্তাংশু চৌধুরীও। 

উল্লেখ্য, দুর্গাপুর পুরসভার ২৩ ও ২৪ নং ওয়ার্ড মূলত এমএএমসি টাউনশিপে বি-ওয়ান, বি-টু, পশ্চিমপল্লী, মামড়া বাজার এলাকা। বেশীরভাগ সব এমএএমসির আবাসন। অভিযোগ, গত তিনমাস ধরে এমএএমসি বি-ওয়ান, বি-টু, পশ্চিমপল্লী এলাকায় চরম জলকষ্ট। সারাদিন একবার জল দেয় তাও পর্যাপ্ত নয়। আবাসনের পাইপে নীচের তলায় জল সামন্য আসলেও, ওপরের তলায় সেটাও পৌঁছায় না। আবার পশ্চিমপল্লী এলাকায় একটিমাত্র ট্যাপকল থাকলেও মিনিট দশেক জল দেয়। লম্বা লাইনে সব বাসিন্দাদের জল সবদিন জোটে না বলে অভিযোগ।

জলকষ্টে নাকাল এলাকাবাসীর ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙে। রবিবার টাউনশিপের রাস্তায় হাঁড়ি, বালতি নিয়ে অবরোধ করে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। শুধু তাই নয় খালি হাঁড়ি, বালতি বাজিয়ে প্রতিবাদের শ্লো-গান তোলে। অবরোধকারীরা শ্লো-গান তোলে, ‘জল নাই, জল চাই বাংলার মেয়ে জবাব দাও’। প্রায় আধ ঘন্টা ধরে চলে অবরোধ।

ক্ষুব্ধ বাসিন্দা প্রিয়া রায়, ববিতা সিং প্রমুখ জানান, “গত তিনমাস জলকষ্ট। সারাদিনে একবার জল দেয়। তাও আবার ১০-১৫ মিনিট। প্রায় দু’শ পরিবার, একটি মাত্র ট্যাপকল। চরম সমস্যায় পড়তে হয়। স্থানীয় কাউন্সিলারকে বহুবার জানিয়েছি। কোনও সুরাহা হয়নি। এলাকাতে রয়েছে জলের ট্যাঙ্ক। সেখান থেকে গোটা টাউনশিপে জলের জোগান যায়, অথচ আমরা পাই না। প্রদীপের নীচে অন্ধকার জগতের মত আটকে রয়েছি। জল ছাড়া সংসারের রান্না, স্নান সব অসম্ভব। বিকল্প কোনও জলের ব্যাবস্থাও নেই। তাই প্রতিবাদে অবরোধ।” বাসিন্দারা জানান,” জলকষ্ট না মিটলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।’

সেই সময় ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন দুর্গাপুর পুর্বের বিজেপি প্রার্থী দীপ্তাংশু চৌধুরী। এলাকাবাসীর বিক্ষোভে আটকে পড়ায় নেমে পড়ে। জলকষ্টের অভিযোগ শুনে নিজেও প্রতিবাদে সামিল হয়। অবরোধকারীদের সঙ্গে বালতি বাজিয়ে রাজ্য সরকার ও পুরসভার জল পরিষেবা নিয়ে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, “তৃণমূল বলছে বাংলার মেয়েকে চাই। আর দুর্গাপুরের বাংলার মা’য়েরা তিনমাস ধরে জলকষ্টে। তার খোঁজখবর দিদিমণি রাখেনি। গত একমাসে দু-দুবার শহরে এসে নির্বাচনী প্রচার করছেন। একবারও এইসব মা’য়েদের আর্তনাদ তিনি শোনেনি। এটা লজ্জার। তৃণমূল সরকারের নুন্যতম জল পরিষেবা দিতে ব্যার্থ। আজকের ঘটনা সেটাই প্রমান করে।” তিনি বলেন, “দুর্গাপুরের তৃণমূল কাউন্সিলাররা ইলেকশনে জেতেনি। সিলেকশেন কাউন্সিলার হয়েছেন। গায়ের জোরে, বাইরে থেকে গুন্ডা নিয়ে এনে রিগিং সন্ত্রাস করে, ভোট লুট করে ক্ষমতায় এসেছেন। সাধারন মানুষের দুঃখ, দুর্দশা কি বোঝবেন তারা? খোঁজ খবর রাখে না কাউন্সিলার। মানুষ এবার তার জবাব দেবে।” তিনি ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের আশ্বসত করে বলেন,” বিজেপি  ক্ষমতায় আসলে বাড়ি বাড়ি পৌঁছবে নলবাহিত জল। জলকষ্ট দুর করা হবে।”  

প্রশ্ন, জলকষ্টের কারন কি? জানা গেছে, ওই এলাকায় জলের ট্যাঙ্ক রয়েছে। সেটি ডিপিএলের। প্রায় ৭০ বছর আগে রাশিয়ান সংস্থা তৈরী করেছিল। সার্ভিস পাইপলাইনের ভালব খারাপ হয়েছে বলে জানান স্থানীয় ২৩ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার দেবব্রত সাঁই। তিনি আরও বলেন,” ওই ধরনের ভালব অমিল। তবুও বিকল্প চিন্তাভাবনা চলছে। পশ্চিমপল্লীতে ভারী যান চলাচলে পাইপ ভেঙ্গে যাওয়া সমস্যা তৈরী হয়েছে। তবে খুব শীঘ্রই জল সমস্যা সমাধান হবে।” তিনি আরও বলেন,” যাদের লকডাউনে দেখা মেলেনি, সেই বিজেপি এটা নিয়ে নোংরা রাজনীতি করছে। মানুষ জবাব তাঁর দেবে।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *