প্রতীতি ঘোষ, হাবড়া, ১৬ এপ্রিল: ভোটের প্রচারে এবার মিঠুন চক্রবর্তীকেও নিশানা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন জাত গোখরো আর সিনেমার গোখরোর মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে।
উল্লেখ্য মিঠুন চক্রবর্তী তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমি জাত গোখরো, এক ছোবলেই ছবি। এই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ হাবরায় বলেন, জাত গোখরো শুধু সিনেমাতেই ফোঁস করে। সিনেমা আর বাস্তবের গোখরোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। মিঠুন চক্রবর্তীর বিজেপিতে যোগদান কেন নাম না করে তা নিয়েও কটাক্ষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
হাবড়ার বানিপুর হোমের মাঠে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সমর্থনে জনসভা করতে এসে প্রথমেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ফের কেন্দ্রীয় সরকারকেই দায়ী করলেন। তিনি বলেন, গত ছয় মাস আগে আমি কেন্দ্রকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলাম বিনা মূল্যে রাজ্যবাসিকে টিকা দেবো কিন্তু ওরা আমাকে উত্তর জানিয়েছেন রাজ্য সরকার টিকা কিনতে পারবে না। এদিকে মিটিং-মিছিল করছেন বহিরাগত গুন্ডারা, তারাই কোভিড নিয়ে আসছেন এই রাজ্যে। কেন্দ্রীয় বাহিনী যারা আছেন তাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে না, তাই আমি নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করবো যারা বহিরাগত আছেন তাদের প্রত্যেককে টেস্ট করে তারপরেই বাংলা ঢুকতে দেবেন।
অনুপ্রবেশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমালোচনা করে বলেন, এতদিন কেন অনুপ্রবেশ নিয়ে মুখ খোলেননি, আর ভোটের সময় অনুপ্রবেশ নিয়ে বলছেন। প্রধানমন্ত্রীর কিছুদিন আগে বাংলাদেশ সফর নিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এবার বাংলাদেশে গিয়েছিলেন শুধুমাত্র ইলেকশনের জন্য। অন্যান্য সময় যখন বাংলাদেশে যান তখন তাঁকে জানিয়ে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে যান। তাই আর কখনো তিনি নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে যাবেন না। যদি প্রয়োজন হয় একাই যাবেন বাংলাদেশে।
এছাড়াও মতুয়া ভোটব্যাংককে কাছে টানতে মতুয়াদের নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যখন বড়মা বেঁচে ছিলেন তখন বড় মায়ের চিকিৎসা পরিসেবা থেকে সমস্ত কিছু আমি করেছিলেন এবং সেটা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের তত্ত্বাবধানেই হয়েছে। ফলে মতুয়াদের নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বা বিজেপি নাগরিকত্ব নিয়ে পুরোটাই মিথ্যে ভাঁওতা দিচ্ছে। সমস্ত মতুয়া এবং সমস্ত জাতির মানুষই ভারতবর্ষের নাগরিক, নতুন করে নাগরিকত্বের প্রয়োজন নেই।

