‘বড় সংসারে মান অভিমান থাকে’, দলের বিদ্রোহ প্রসঙ্গে সাফাই ফিরহাদের

রাজেন রায়, কলকাতা, ৫ ডিসেম্বর: আগে সামান্য গুঞ্জন থাকলেও ধীরে ধীরে স্পষ্ট এবং তীব্র হয়ে উঠছে তৃণমূলের ভিতরে বিদ্রোহের সুর। তবে এই বিদ্রোহকে গুরুত্ব দিতে নারাজ ফিরহাদ হাকিম। পুর প্রশাসক মন্ডলীর মুখ্য প্রশাসক তথা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম শনিবার বলেন, ‘বড় সংসারে থাকতে গেলে অনেক সময় মান অভিমান হতেই পারে।’

এদিন রাজ্যের মন্ত্রী রাজীব বন্দোপাধ্যায় ও ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ বিদ্রোহের ভাষায় বঞ্চনার অভিযোগ করেছিলেন। সে প্রসঙ্গে ফিরহাদ পাল্টা মন্তব্য করে কার্যত বিদ্রোহের সুরকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন আছেন মাথার উপর তখন চিন্তার কোনও কারণ নেই। তিনি সব দেখছেন। তিনি সবার জন্য ভালো করবেন।’ অন্য দিকে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ফিরহাদ বলেন, ‘রাজীব ব্যানার্জি মন্ত্রী হিসাবে ভালো কাজ করছে। ও ভালো ছেলে আমাদের ছোট ভাইয়ের মতো। আলোচনার মধ্যে দিয়ে সব মিটে যাবে।’

অন্য দিকে শুক্রবার রাজ্য সরকারের ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ফের তৃণমূলের গোষ্ঠীসংঘর্ষ। শনিবার মন্ত্রী সাধন পাণ্ডের সামনেই দু’ পক্ষের হাতাহাতি হয়। এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পুর মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও। তিনি বলেন, “সাধারণত একজন বলিষ্ঠ নেতা দীর্ঘদিনের বিধায়ক বর্তমানে সরকারের মন্ত্রী সাধন পান্ডে। তাকে ইতিমধ্যেই আলোচনায় বুঝিয়েছি ছোট ছোট বিষয়গুলি নিয়ে অযথা বিচলিত না হতে। এত বড় শহর ও রাজ্যের একাধিক সমস্যা ও বিষয় রয়েছে।” ফিরহাদ আরও জানান, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন বাংলা গড়ছেন। সেই কর্ম যজ্ঞে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে চলতে হবে।”

পাশাপাশি বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকেও এদিন কড়া ভাষায় কটাক্ষ করেন ফিরহাদ। তাঁর মতে দিলীপ ঘোষ আরএসএসের বুদ্ধি নিয়ে চলে। শনিবার চেতলা অগ্রণী ক্লাবে দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করেন তিনি। সেখানেই দিলীপ ঘোষ কে একহাত নিয়ে বলেন, ‘অত্যন্ত গর্ববোধ করি আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল করি। দিলীপ ঘোষের মতন আরএসএসের বুদ্ধি নিয়ে আমরা চলি না। বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য জুড়ে দুয়ারে সরকার প্রকল্প চালু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। পাল্টা আর নয় অন্যায় প্রকল্প চালু করেছে বিজেপি। হাথরাস কাণ্ডে পুলিশকে মারা হয়েছে। ৫৩ জনকে দিল্লির কান্ডে মেরে দিয়েছে বিজেপি সরকার।’ অভিযোগ করে ফিরহাদ আরও বলেন, ‘গুজরাটে ২০০০ মানুষের প্রাণ নিয়েছে বিজেপি। ভারত বর্ষ জুড়ে দাঙ্গা শুরু হয়েছে। দুয়ারে সরকার প্রকল্প মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় শুরু হয়েছে। বিরোধীরা ভাবতে পারেনি। তাই হিংসা করছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *