“বাংলায় অনেক মিনি কাশ্মীর রয়েছে,” বিস্ফোরক দাবি দ্য কাশ্মীর ফাইলসের পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রীর

আমাদের ভারত, ১৩ মার্চ: বাংলায় এখন অনেক মিনি কাশ্মীর রয়েছে। এমনটাই অভিযোগ করেছেন দ্যা কাশ্মীর ফাইল সিনেমার পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী। দ্য বুদ্ধা ইন আ ট্রাফিক জ্যাম চলচ্চিত্রের জন্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে শারীরিকভাবে টার্গেট করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন পরিচালক। তার দাবি বাংলা কাশ্মীর হওয়ার আগে বাংলার গল্প জনগণের সামনে আনতে চান তিনি। বাংলার রাজনীতির কি ভাবে পতন হয়েছে তা দেখানোর জন্য পরিচালক একটি সিনেমা বানাতে চান বলেও জানিয়েছেন। তাঁর কথায় বাংলা কাশ্মীর হওয়ার আগেই এই কাজ শেষ করে ফেলতে হবে তাকে।

রবিবার কলকাতায় এসেছিলেন দ্য কাশ্মীর ফাইলসের পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী। কলকাতা মিউজিয়ামে আজাদি কা অমৃত মহোৎসব অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন তিনি। সেখানেই তিনি বলেন, তিনি একসময় বামপন্থায় বিশ্বাস করতেন। কিন্তু একটা সময়ের পর তার উপলব্ধি বদলে গেছে। পরিচালক জানান, “আমি নিজে একজন বামপন্থী ছিলাম। জেলেও গিয়েছি। পরে বুঝতে পারি ওটা বিনাশের রাস্তা।”

বিবেক আরো জানান, তার ছোটবেলার স্মৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে কলকাতা। তবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্য বুদ্ধা ইন আ ট্রাফিক জ্যাম ছবি স্ক্রিনিংয়ে গিয়ে হওয়া খারাপ অভিজ্ঞতার কথাও ভাগ করে নেন সবার সাথে। পরিচালক বলেন, একবার আমার মা আমাকে বলেছিলেন তুমি যদি এমন লোকেদের সঙ্গে দেখা করতে চাও যারা ভারতকে পরিবর্তন করতে পারে তবে বাংলায় যাও। কিন্তু বুদ্ধা ইন আ ট্রাফিক জ্যাম সিনেমার জন্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে শারীরিকভাবে টার্গেট করা হয়েছিল।

বাংলাকে মিনি কাশ্মীর বলতে উল্লেখ করে বিবেক। তিনি বলেন, “বাংলায় এখন অনেক মিনি কাশ্মীর রয়েছে।বাংলা পুরোপুরি কাশ্মীর হওয়ার আগে আমি বাংলার গল্প জনগণের সামনে আনতে চাই। বাংলার রাজনীতির কিভাবে পতন হয়েছে সেটা সবাইকে দেখানোর জন্য আমি এবার সিনেমা বানাতে চাই।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কটাক্ষ করেন তিনি। অগ্নিহোত্রী বলেন, রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডাহা ফেল মুখ্যমন্ত্রী। এবার তিনি বাংলা ফাইলসও খুলতে চান।
রবিবার সন্ধ্যায় কলকাতায় বসে মুম্বাইয়ের পরিচালক বিবেক জানিয়ে দেন বাংলা কাশ্মীর হয়ে যাওয়ার আগে কাজ শেষ করে ফেলতে হবে তাকে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে বিবেক জানান,
“বহু গবেষণা করে দ্য বুদ্ধা ইন আ ট্রাফিক জ্যাম ছবিটা বানানো। ওই ছবি বহুদিন বলিউডের লোকেরা মুক্তি পেতে দেয়নি। মায়ের বলা কথাগুলো তখনই মনে হয়েছিল তার। তখন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা মাথায় আসে। যাই ওখানে, কিন্তু সেদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটে পৌঁছাতে আমার গাড়ি ঘিরে ধরে ১৯ থেকে ২২ বছরের একদল ছেলে মেয়ে। আমার ড্রাইভারকে ওরা মারলো, গাড়ি ভাঙ্গলো, আমি বেরিয়ে আসতেই আমার উপর হামলা করল। আমার কাঁধ ভেঙ্গে দিল। আজও পুরোপুরি তা ঠিক হয়নি। যে যাদবপুরের কথা শুনে আমি বড় হয়েছি সেদিন ওখানে যেতে মনে হল ভারত নয় অন্য দেশে আছি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *