ঋদ্ধি ভট্টাচার্য, আমাদের ভারত, কলকাতা, ২ জুন: বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য, নন্দনচেতনা এবং শাড়ির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হলো এক অভিনব রিসেপশন-ভিত্তিক ফ্যাশন উপস্থাপনা।
অনুষ্ঠানের আয়োজক ম্যাহেক খান জানান, বাঙালি শাড়ি শুধু একটি পোশাক নয়, এটি বাংলার ইতিহাস, সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়। সেই ভাবনাকেই নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ছিল “রিসেপশনে বাঙালি সংস্কৃতির ভিন্ন সাজ”, যেখানে শাড়ির মাধ্যমে বাঙালিয়ানার বিভিন্ন রূপ তুলে ধরেন চার মডেল—সুতীর্ণা দত্ত, দীপমালা রায়, পূজা কয়াল এবং সৌমিলি দত্ত। প্রতিটি উপস্থাপনায় ফুটে ওঠে বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নানা দিক। সাজসজ্জার দায়িত্বে ছিলেন আনিশা খাতুন, সায়নী শীল, রোহান বিশ্বাস এবং সালেহা হাসান। তাঁদের দক্ষ প্রসাধন শৈলী মডেলদের উপস্থাপনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। পোশাক পরিবেশনে ছিলেন তুহিন সরকার, যিনি ঐতিহ্যবাহী বাঙালি শাড়ির সঙ্গে আধুনিক রিসেপশন ফ্যাশনের এক সুনিপুণ মেলবন্ধন ঘটান।
বাংলা সাহিত্যে শাড়ির নান্দনিকতা বহু কবির লেখায় স্থান পেয়েছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর নানা কবিতা ও গানে বাঙালি নারীর শাড়ি-পরা রূপকে সৌন্দর্য ও স্নিগ্ধতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। অপরদিকে জীবনানন্দ দাশের কবিতায় বাংলার নারী ও তার শাড়ি যেন গ্রামবাংলার প্রকৃতি ও আবেগের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কাজী নজরুল ইসলামের রচনাতেও শাড়ি বাঙালি নারীর আত্মমর্যাদা ও সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে উঠে এসেছে। এই সাহিত্যিক ঐতিহ্যের প্রতিফলনই যেন দেখা গেল অনুষ্ঠানের প্রতিটি উপস্থাপনায়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জয়ন্ত দাসগুপ্ত। তিনি বলেন, “বাংলার শাড়ি কেবল ফ্যাশনের উপকরণ নয়, এটি আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ধারক ও বাহক। এই ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে নিজেদের শিকড়ের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করবে।” অনুষ্ঠানের চিত্রগ্রহণ করেন রাজ চক্রবর্তী। দর্শকদের উচ্ছ্বসিত উপস্থিতি ও প্রশংসায় মুখর এই আয়োজন বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী শাড়ি-সৌন্দর্যকে নতুন মাত্রায় তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।

